ইতিহাসে ট্রাম্প মাত্র ষষ্ঠ

রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট। এর আগে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২০ সালের নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে হেরে যান তিনি। তবে ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউজে যাওয়ার স্বপ্ন কখনই ছাড়েননি। নানা বিতর্ক, সমালোচনা ও আইনি ঝামেলায় জড়িয়েও এবারের নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার প্রত্যয় তার।

যুক্তরাষ্ট্রে পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। সাধারণত পরপর তিনবার নির্বাচনে লড়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে হেরে গেলে আরেক মেয়াদে ভোটের লড়াইয়ে নামা যায়। এবার ট্রাম্প সেটাই করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুইয়ের বেশিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ব্যক্তি ট্রাম্প একাই নন। এর আগেও কয়েকজন একই কীর্তি গড়েছেন।

প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন প্রকট রূপ নেয়। এর রেশ গিয়ে পড়ে টমাস জেফারসনের ওপর। তিনি তখন ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান পার্টির নেতা। জেফারসন নির্বাচনে দাঁড়ান ফেডারেলিস্ট পার্টির প্রার্থী জন অ্যাডামসের বিপক্ষে। ১৭৯৬ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দুই প্রার্থীর মধ্যে চরম হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।শেষ হাসি হাসেন জন অ্যাডামস। এর চার বছর পর ১৮০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা হন টমাস জেফারসন। ১৮০৪ সালের নির্বাচনে। আবারও প্রার্থী হয়ে অনায়াসে নির্বাচনী বৈতরণী পার হন তিনি। হারিয়ে দেন ফেডারেলিস্ট প্রার্থী চার্লস পিঙ্কনেকে।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর ছিলেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। ১৮৮৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন তিনি। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জেমস ব্লেইনকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হন তিনি। পরেরবার, অর্থাৎ ১৮৮৮ সালের নির্বাচনে অনায়াসে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রার্থিতা বাগিয়ে নেন গ্রোভার। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির বেনজামিন হ্যারিসন। জনগণের ভোটে জিতলেও ইলেকটোরাল কলেজে হেরে যান গ্রোভার। ১৮৯২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রার্থী হন গ্রোভার। তৃতীয়বারের লড়াইয়ে আর হতাশ হতে হয়নি তাকে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান। ১৮৯৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৩৬ বছর বয়সে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে চষে বেড়ান পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর হাসি হাসতে পারেননি। এরপর ১৯০০ ও ১৯০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আরও দুই দফায় ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হয়েছিলেন ব্রায়ান। দুবারই পরাজিত হন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্টদের একজন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। ১৯৩২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রথমবার প্রার্থী হন। প্রথমবারই বাজিমাত করে প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৩৩ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত আমৃত্যু এ দায়িত্ব সামলেছেন ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট। রীতি ভেঙে দুই মেয়াদের বেশি সময় প্রেসিডেন্ট থাকার রেকর্ড ছিল তার দখলে। এর কারণ হলো, তার আমলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ^যুদ্ধের দামামায় মেয়াদ বাড়ে প্রেসিডেন্টের। এর মধ্যে ১৯৩৬ ও ১৯৪০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও জয় পান রুজভেল্ট।

প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারের সরকারে পরপর দুই মেয়াদে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন রিজার্ড নিক্সন। এরপর ১৯৬০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন নিক্সন। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ও মিয়ামির সিনেটর জন এফ কেনেডির থেকে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় বেশ এগিয়ে ছিলেন। তবে স্নায়ুযুদ্ধ ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের পরিস্থিতিতে নির্বাচনে নিক্সন হেরে যান। রিচার্ড নিক্সন দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন ১৯৬৮ সালের নির্বাচনে। ১৯৭২ সালে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়ে সহজ জয় পান নিক্সন। টানা দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হন তিনি। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত নিক্সন প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন।