আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভোট একাধিক কারণে আলোচিত। নিচে সেই বিষয়ে আলোকপাত করা হলো
আসামি ট্রাম্প : গত ৩০ মে প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে আদালতে ফৌজদারি অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটাও আবার ৩৪টি অভিযোগে। ২০১৬ নির্বাচনের আগে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানো ও সেটি গোপন রাখতে ড্যানিয়েলসকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। আদালতে ছয় সপ্তাহের বিচারকার্য চলাকালে ট্রাম্পের সঙ্গে অভিসারের বিশদ বর্ণনা দেন ড্যানিয়েলস। এ সময় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারলেও গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সারা দেশের নজর ট্রাম্পের দিকেই থাকে।
বাইডেনের বিতর্ক দুর্যোগ
২৭ জুন প্রথম টিভি বিতর্কে অংশ নেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। কিন্তু সেখানে একেবারেই খেই হারিয়ে ফেলেন ৮১ বছর বয়সী বাইডেন। তোতলামি, অস্পষ্ট কথাবার্তা, কথার মাঝখানে কী বলছেন, তা ভুলে যাওয়া কার্যত এ বিতর্ক ‘সার্কাসেই’ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বাইডেনের নামটি চলে যায় বাতিলের খাতায়। বিতর্ক-পরবর্তী সমীক্ষাগুলোতেও দেখা যায়, জনমতে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কিন্তু তবুও নিজের অবস্থানে শক্ত থাকেন বাইডেন। হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হয়, তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার ‘কোনো সম্ভাবনাই নেই’।
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা
নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে ১৩ জুলাই। পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এক আততায়ী, যেটি সাবেক প্রেসিডেন্টের কানের লতি ছুঁয়ে যায়। এরপর সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ট্রাম্পকে ঘিরে ধরা এবং তার হাত মুষ্টি করে ‘ফাইট, ফাইট, ফাইট’ বলে চিৎকার করার ছবি এখন ইতিহাসের অংশ। আততায়ী ২০ বছর বয়সী টমাস ক্রুকস ঘটনাস্থলেই সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে নিহত হন।
কমলার আগমন
বিতর্ক-দুর্যোগ এবং তার বয়স ও সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ২১ জুলাই নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ১৯৬৮ সালের পর তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন বাইডেন। কমলা ডেমোক্রেটিক শিবিরকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং নির্বাচনী সমীক্ষাগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে ভালো করতে শুরু করেন।
আবার ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা
এবার আততায়ী গুলি ছোড়ার আগেই সিক্রেট সার্ভিসের নজরে পড়েন। ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডায় গলফ খেলার সময় ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন রায়ান রুথ নামের এক ব্যক্তি। পরে তদন্তে জানা যায়, গাছের আড়াল থেকে ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার সময়ই তাকে দেখে ফেলে সিক্রেট সার্ভিস এবং তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। এ আততায়ীকেও ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। এ হত্যাচেষ্টার জন্য বাইডেন ও হ্যারিসের ‘উসকানিমূলক কথাবার্তাকে’ দায়ী করেন ট্রাম্প।