বাগেরহাটে প্রকাশ্য ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট-গিলাতলা সড়কে বাগেরহাট সদর উপজেলার মীর্জাপুর মধ্যেপাড়া জামে মসজিদের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ওই বিএনপি নেতার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা কামাল তারফদার নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিহতের স্বজন ও বিএনপি এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত সজিব তরফদার (৪০) বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডেমা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি ডেমা গ্রামের তরফদার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা বলেন, সজীব তরফদারকে হত্যা করার খবর পেয়ে আমরা এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে আসি। এসে দেখি তার ব্যবহ্নত মোটরসাইকেলের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি এই এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে ছিলেন। মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিত। বিভিন্ন সময়ে তাকে মারার চেষ্টা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তারা।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, সজীব তরফদার ডেমা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডেমা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। বিএনপির সব ধরনের আন্দোলনে রাজপথের সৈনিক ছিলেন। তিনি এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিলেন। তার এই মৃত্যুতে এলাকাবাসী ক্ষুব্দ হয়েছে। দিনেদুপুরে এভাবে সন্ত্রাসীরা হত্যা করবে তা আমরা মানতে পারছি না। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃতদের আইনের আওতায় আনতে সেই দাবি জানাচ্ছি।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে সজীব তরফদার তার গ্রামের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে একজনকে সাথে নিয়ে শহরে যাচ্ছিলেন। শহরে যাওয়ার পথে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। খোসাটি শটগানের গুলি। শটগান দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি। অস্ত্রধারীরা মুখোসপরা ছিল, তারা একাধিক দলে বিভক্ত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডটিকে আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের অল্পদিনের মধ্যে শনাক্ত করে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করতে পারবেন বলে পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।