মূল পরিচয় বোলার হলেও ব্যাট হাতে রেজাউর রহমান রাজা সিলেটকে এনে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। আসল ব্যাটসম্যানদের উইকেট বাঁচাতে বগুড়ায় তৃতীয় দিন বিকেলে ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে নেমেছিলেন তিনি। পরদিন সকালে তিনিই হয়ে গেলেন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। ১১৭ বলে ৫৬ রানের ইনিংস দিয়ে জাতীয় লিগে দলকে এনে দিয়েছেন দ্বিতীয় জয়।
রংপুরের দেওয়া ১৯০ রান তাড়া করতে নেমে ৫১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পিনাক ঘোষের সঙ্গে যোগ দেন রাজা। তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন তিনি। দলকে একশ পার করিয়ে ফেরেন ৪২ রান করা পিনাক। এরপর অমিতের সঙ্গে রাজার জুটিতে আসে ৫০ রান। পরপর দুই ওভারে রাজা (১১৭ বলে ৫৯), মুবিন আহমেদ ও রাহাতুল ফেরদৌসকে ফিরিয়ে রংপুরকে কিছুটা আশা দেখান মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। তবে তা দীর্ঘায়িত হয়নি। আসাদুল্লা আল গালিবকে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন অধিনায়ক অমিত।
এই জয় ৩ খেলায় ১৮ পয়েন্ট নিয়ে জাতীয় লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তুলে দিয়েছে সিলেটকে। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট আর ৫৯ রানের ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন রেজাউর রহমান রাজা।
৯৯-এ নার্ভাস অঙ্কনের ১ রানের দুঃখ : জাতীয় লিগে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি দিয়ে জাতীয় দলে ঢুকেছিলেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। অভিষেকও হয়েছে টেস্টে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা শেষে জাতীয় লিগের জন্য মাঠে ফিরেই সেঞ্চুরির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার কক্সবাজার অ্যাকাডেমি মাঠে ম্যাচের শেষ দিনে ১ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে তাকে।
৯৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা অঙ্কন দিনের দ্বিতীয় বলেই উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান ঢাকার অধিনায়ক। এরপর দলকে এগিয়ে নেন তাইবুর রহমান। অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান খেলেন ৬১ রানের ইনিংস। শেষ দিকে সুমন খান ৩২, নাজমুল ইসলাম ২৬ ও রিপন ম-ল ২৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৪০০ পার করান।
পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ বলে ৩৯ রান করেন চট্টগ্রামের তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন। প্রথম ইনিংসে চমৎকার সেঞ্চুরি করা সাজ্জাদুল হক এবার করেন ৯ রান। তবে তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
তিন ম্যাচে এই প্রথম পয়েন্ট পেল চট্টগ্রাম। ২ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে তারা। সমান ম্যাচে তিন ড্রয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ছয় নম্বরে ঢাকা।
ম্যাচ বাঁচাতে পারল না ঢাকা মেট্রো : সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ব্যাটিং-ধসের শেষ দিনে ব্যাটিং-ধসের শিকার হয়ে জাতীয় লিগের ম্যাচে খুলনার কাছে হেরে গেছে দলটি।
দ্বিতীয় দিন ফলোঅন করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ শুরুই করেছিল মেট্রো। অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবের সেঞ্চুরিতে ভর করে তৃতীয় দিনটা ৪ উইকেটে ২৯৭ রানে শেষ করে দলটি। মার্শাল তার ২৬তম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরিটিকে ১৫২ বানিয়ে ফেরার পরই শুরু ধসের। ৩৪৮/৪ থেকে ৩৭২/১০-২৪ রানেই শেষ ৬ উইকেট হারায় মহানগর। খুলনার দুই স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান ও টিপু সুলতান মিলেই শেষ ৬ উইকেটে ৫টি নিয়েছেন।
ম্যাচ জিততে ২০৭ রানের লক্ষ্য পায় খুলনা। সেই লক্ষ্য ৩৫ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে এবারের লিগে প্রথম জয় পায় দলটি। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান এনামুল হক বিজয় ৪৭ বলেই ১০ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৭১ রান। আরেক ওপনার অমিত ৪১ ও তিনে নামা ইমরুল কায়েস ৮৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৮০ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন ইমরুল।
প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শেখ মেহেদী।
সানজামুলের স্পিনে কুপোকাত বরিশাল: কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিন পরিত্যক্ত হওয়ার পরও ম্যাচে ফল বের করে নিয়েছে রাজশাহী। সানজামুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তারা ৬ উইকেটে হারাল বরিশালকে।
ম্যাচের তিন দিন মিলিয়ে শেষ হয়েছিল দুই দলের প্রথম ইনিংস। শেষ দিন বরিশালকে ১৩৭ রানে গুটিয়ে দেয় রাজশাহী। বাঁহাতি স্পিনে ৪০ রানে ৬ উইকেট নেন সানজামুল। পরে ৬৮ রানের লক্ষ্য ১৫ ওভারে ছুঁয়ে ফেলে তারা।
তিন ম্যাচে একটি করে জয়, পরাজয় ও ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত চার নম্বরে রাজশাহী।