মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন করেছেন রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৭ নভেম্বর) সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফলে ট্রাম্প নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। তবে অনেকের কাছেই প্রশ্ন ট্রাম্প কি আবারও নির্বাচনে দাঁড়াবেন বা তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা?
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী পরপর দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। সাধারণত পরপর তিনবার (ব্যতিক্রম রয়েছে) নির্বাচনে লড়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে হেরে গেলে আরেক মেয়াদে ভোটের লড়াইয়ে নামা যায়। এবার ট্রাম্প সেটাই করেছেন।
২০১৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প। ২০২০ সালে তিনি বাইডেনের কাছে পুনরায় নির্বাচনে হেরে যান। মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন পর ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর ট্রাম্প ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
ফক্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দোদুল্যমান রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়ায় দুর্দান্ত জয়ের পর ট্রাম্প ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোটের সীমা অতিক্রম করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুইয়ের বেশিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ব্যক্তি ট্রাম্প একাই নন। এর আগেও কয়েকজন একই কীর্তি গড়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন টমাস জেফারসন, গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড, উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান, ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও রিচার্ড নিক্সন।
মূলত দুই মেয়াদের সময়সীমার অনানুষ্ঠানিক নজির স্থাপন করেন জর্জ ওয়াশিংটন। ১৮০৮ সালে টমাস জেফারসন এটিকে নীতিতে পরিণত করেছিলেন।
তবে ১৮৮০ সালে ইউলিসিস গ্রান্ট, ১৯১২ সালে থিওডোর রুজভেল্ট ও ১৯২০ সালে উড্রো উইলসন এ রীতিকে চ্যালেঞ্জ করেন। এমনকি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ৪ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। থিওডর রুজভেল্ট ও উইলসন তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা সফল হননি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে চার মেয়াদে ১২ বছরের বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৩২তম প্রেসিডেন্ট। পরে ১৯৪৪ সালে চতুর্থ মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান।
তার মৃত্যুর পরই মার্কিন সংবিধানে নতুন সংশোধন আনা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, দুই মেয়াদের বেশি কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।