পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক

গ্রাহকের টাকা নিয়ে আত্মগোপনে মাঠ সহকারী

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সহকারী তুষার কান্তি মন্ডল গা ঢাকা দিয়েছে। প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন বলে এলাকার লোকজন ধারণা করছেন। 

আত্মগোপনের ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও অংকই বলতে চান না শাখা ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম। শাখা কিংবা সদস্য থেকে কত টাকা তুষারের হাতে ছিল সেটিরও কোনো উত্তর নেই কর্মকর্তার কাছে। 

বালিয়াকান্দি উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৩০ অক্টোবর মাঠ সহকারী তুষার কান্তি মন্ডল তার ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে যায়। এরপর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অডিট টিম এসে অডিট করে গেছেন তারা প্রতিবেদন দিলে টাকার অংক বলা যাবে। 

আপনার শাখার সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী তুষারের হাতে ব্যাংক কিংবা সদস্যদের কত টাকা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অংকের বিষয়টি এড়িয়ে অডিট টিমের কথাই বারবার উল্লেখ করেন। 

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত তুষার কান্তি মন্ডলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৪টি সমিতির ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ৬২০ টাকা হস্তু মজুদ ছিল মাঠ সহকারী তুষারের কাছে। শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি প্রধান কার্যালয়ে ১৫ তারিখেই পাঠানো হয়। 

শাখা ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, অডিট করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট দাখিল না হওয়ায় কত টাকা সে আত্মসাৎ করেছে বলা যাচ্ছে না। তার স্ত্রী ও বাবার খোঁজ মিলছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে।  

তিনি আরও বলেন, মাঠ সহকারী তুষার কান্তি মন্ডল এনআরবিসি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে তারা অবগত করছেন। 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গ্রাহকের টাকা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক থেকে নামে বেনামে ঋণ গ্রহণ করে। হঠাৎ করেই বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে গাঢাকা দিয়েছেন তুষার। পরে শুনতে পাচ্ছি ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে তুষার কান্তি মন্ডলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।