চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ নভেম্বর) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।
এ মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘১০ বছর পর (বিচারিক আদালতের রায়ের পর) এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলে শুনানি শুরু হয়েছে। এ মামলায় আসামিরা পৃথক ধারায় ফাঁসি ও যাবজ্জীন কারাদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন। আদালতে বলেছি আসামিদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। একই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলা ও পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। কিন্তু বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী চোরাচালান ও অস্ত্র উদ্ধারের দুটি মামলাই একটা বিচারের মধ্যে আনা সম্ভব ছিল। আমরা চাইবো হাইকোর্টে দুই ধারার বিচার যেন একই সঙ্গে শুনানি হয়।’
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের ঘটনায় চোরাচালন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১- এ মামলার রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির মতিউর রহমান নিজামী (যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রহিম (ইতোমধ্যে মারা গেছেন) সহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া অস্ত্র আইনের মামলায় ১৪ আসামিকে যাবজ্জীন কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।