কংগ্রেসের দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির সংসদের উভয়কক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে রিপাবলিকান পার্টি। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৪টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেও রিপাবলিকানদের কাছে পাত্তা পাননি ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের এই দুই কক্ষের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের, আর সিনেট ছিল ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে। এবার সেটিও হাতছাড়া হলো বর্তমান ক্ষমতাসীনদের। ফলে একচেটিয়া ক্ষমতা নিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুই কক্ষেই নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে রিপাবলিকানদের বাজিমাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। ১০০ সদস্যের সিনেটে ৫২টিতে এগিয়ে আছেন রিপাবলিকানরা। আর ৪২টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সেই সঙ্গে নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এগিয়ে রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই ভোট হয়েছে। সেখানে রিপাবলিকানরা ২০৫টিতে জয় নিয়ে এগিয়ে আছে। তার বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ১৮২টি আসন। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও, সিনেট সদস্যরা নির্বাচিত হন ছয় বছরের জন্য। সিনেটের যে ৩৪টি আসনে নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে ১৯টি আসন ছিল ডেমোক্র্যাটদের দখলে। চারটি আসন ছিল স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে। এই নির্দল প্রার্থীরা অধিকাংশ সিদ্ধান্তেই গত চার বছরে বাইডেন প্রশাসনকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রতিটি রাজ্য থেকে দুজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তবে এই সিনেটরদের মধ্যে আবার তিন রকমের ভাগ থাকে। এক-তৃতীয়াংশ সিনেটরকে দুই বছর পরপর নির্বাচনে লড়তে হয়। এ বছর যারা ভোটে লড়ছেন, তারা প্রথম শ্রেণির সিনেটর। ২০১৮ সালে ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা। মার্কিন সংবিধানে সিনেট এবং হাউজের নির্বাচনে এই বৈচিত্র্য রাখার যাতে ক্ষমতা একীভূত না হয়। বিরোধীদের শক্তিও যাতে অটুট থাকে সে কারণে এই বৈচিত্র্য। এর ফলে প্রেসিডেন্ট একচেটিয়া ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন না। অনেক সময়েই দেখা যায়, যে দলের প্রেসিডেন্ট তার বিপক্ষ দলের প্রতিনিধিদের সংখ্যা কংগ্রেসে বেশি। তবে এবার প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি এই দুই কক্ষেও জয় রিপাবলিকানদের শক্তি বাড়িয়ে দিল। যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভাকে বলে কংগ্রেস, যা মূলত দুই কক্ষবিশিষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। আর উচ্চকক্ষ হলো সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-কংগ্রেসের এই দুই কক্ষই আইন প্রণয়ন করে থাকে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউজের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধাও হয়ে দাঁড়াতে পারে কংগ্রেস। ২০১৯ সালে কংগ্রেসের এই প্রতিনিধি পরিষদের কারণেই অভিশংসনের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় দেয়। যার একটি হলো প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার। অন্য অভিযোগ ছিল কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া। দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রেই অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট পড়ে প্রতিনিধি পরিষদে। প্রথম অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিশংসনের পক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রেও অভিশংসনের পক্ষে পড়েছিল ২২৯ ভোট। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৬ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। তবে প্রতিনিধি পরিষদ অভিশংসিত হলেও, সে যাত্রায় সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য বেঁচে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে অভিশংসিত হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের আগে যুক্তরাষ্ট্রের আর যে দুই প্রেসিডেন্ট অভিশংসিত হয়েছিলেন অ্যান্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিনটন। এ ছাড়া গত চার বছরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একাধিকবার অস্ত্র আইন সংস্কারের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদের ভেটোতে তা হয়ে উঠেনি।