বলতে চাইলে বলতে পারো
আমি বললে মেরে পুঁতে রাখবে
কিছু বললে তো মেরে ঝুলিয়ে দেবে
বরটা চাকরি হারাবে খামাখা খামাখা
শাসানি খেতে খেতে বাসি শসার
মতো চিমসে যাবে ছেলেটা আর
দিন শেষে, ও-ই, মা-হারা হবে
বললে তো ধুন্ধুমার লড়াই
সবার আগে মুণ্ড কাটবে আমার
কপালের মাঝখানে দেগে দেবে
ধর্ম লিঙ্গ বাণিজ্য নিয়তি
ছেঁড়া কাটা জোড়াতালি কথা
বুঝবে কেউ, আশা নেই
সবাই আমার মতো খাবি খেতে খেতে
বিকল্প আশ্বাস খোঁজে
ভেবেছি আমি সেই বিরল বৃক্ষ
কোনো একবার জন্মাতে যে
সময় নেবে পাক্কা তিনশ বছর
আরও তিনশ বছর টিকে থাকবে
পৃথিবীর ফুলে ফলে ঝড়ে তাণ্ডবে আর
বাকি তিনশ বছর কেটে যাবে যার
ক্রমশ লুপ্ত হতে হতে
তা না হয়ে আমি জন্মালাম অসংখ্য যুদ্ধ
আর মহামারী সামলানোর দায় নিয়ে
বললে, কেটে চিরে ধাপে ধাপে
মসলা মাখিয়ে রোদে দেবে
পিষে মারবে আর শোক করার
সময় দেবে না একটুও
আমি তখন রাফায় সার বেঁধে
শুইয়ে রাখা শিশুদেহ
আমি, কান্না গিলে মুষ্টি তোলা ভঙ্গুর হাত
ভস্ম মেখে বসা স্তূপ, ভেবে দেখি রামাল্লায়
কোনো অক্ষত বাড়ি আদৌ আছে কিনা
৭৫ বছরে টিকেছে গুটিকয় অলিভ গাছ
পুড়ে যাওয়া কিছু গম আর যবের ক্ষেত
স্বপ্নভূমি অদম্য স্পৃহা লোহুতে লোহুতে
ওরা মারে রোজ...
জলে জ্বালানিতে গুপ্তঘাতকে ধর্ষণে
ওরা মরে রোজ
পারো, তোমার অভ্যস্ত যাপনে
এসব কথা মিলিয়ে নিতে পারো?
বললে, দেখবে একটা প্যাচওয়ার্ক জীবন
কোথাও মৃদুপায়ে হেঁটে আসে বিলাস ব্যর্থতা
কোথাও দৃপ্ত সমাবেশ, কঠিন চোয়াল
অথচ এটা সত্য, ভেতরে ভেতরে আমি
চেপে রাখি পশ্চিম তীরের অগণিত শব
লেবুঝোঁপের পাশে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্য হারিয়ে
ফেলতে দেখি আর শক্তি হয়ে জ¦লে না উঠে
নিভে যাওয়ার দায় মাথা পেতে নিই
দু-পা ফাঁক করে হান্টার আর পতাকা হাতে
যারা চিরকাল ছিনিয়ে নেয় জ¦ালানি উষ্ণতা
তাদের কথা পেটে পেটে চালান করে দিই
ঝাঁজরা হতে হতে টিকে থাকতে থাকতে
গাজা আমাকে শেখায় এগিয়ে যাও,
বলতে চাইলে এসব কথা তুমিও বলতে পারো।
অঘোষিত
আজ সবাই চলে যাচ্ছে
কেউ শহর ছেড়ে
দেশ ছেড়ে কেউ কেউ
গমনের পথে পলায়ন
বা প্রয়োজন তাগাদা মাত্র
লাঠি হাতে পাহারায় ব’সে
অদ্ভুত জোব্বা আচকান
দৃশ্যত হাত নাড়ি বিদায়ে
অদৃশ্যত সিজেল হাতে
ঝুঁকে পড়ি কাঠখণ্ডে
ফুটিয়ে তুলতে একটা
পরিষ্কার মানুষের মুখ
আমরা নিকটে আসি
বাধ্য হয়ে, না হয়ে
আমাদের খুলিতে
মরে আসা ত্বক আর
পাকা চুলের গন্ধ
বড়জোর খুক খুক কাশি
বড়জোর সদর হাসপাতাল
তারপর ক্রমশ বিলুপ্তি
সরল পত্র বৃক্ষের মতো
সারা দেশ জুড়ে বিসর্জন
সারা দেশেই অঘোষিত ছুটি
আজ কেউ বলতে পারে
আমরা কোথাও যাচ্ছি না?
থেমে যাওয়া ঠিক হবে না
চারপাশে আগুন
থেমে যাওয়া ঠিক হবে না
শলায় মত্ত কবিরা
মত্ত পানে
বিধানে
ব্যবধানে
মশকে শোনায় গান
চিপে চিপে হাজার মানুষ
হাজার মুদ্রাদোষ
শায়িত শতেক শয্যায়
ঠগের মুলুকে
ব্যাপক মানের কারবার
তুমি কে হে
পকেটে আগুন
করো কার সুলুক সন্ধান
ঋতু আসে, আকাল সময়
ঋতু আসে, শিউলি ঝরে যায়
কে শোনাবে মঙ্গলগীত
হতাহত তবে সংখ্যাতীত
মঠের মাঠ সুনসান
মৃত্যু আশপাশে...
থেমে যাওয়া ঠিক হবে না
হয়তো তোমার কাছে ঠিকঠাক খবর আসেনি!
মায়াস্বরী
কে তুমি পুতুল হাতে এসেছ এ পাড়ায়?
তোমার পেছন পেছন ঢুকে যায়
আজব আজব আরও কিছু লোক
ধারণা করি, একদিন দেখাবে খেলা
অদ্ভুত তাদের বাচনভঙ্গি হাসি ও আঙুল
অভিধান খুলে যুৎসই শব্দ খুঁজে নেবো
সেসব চিহ্ন ইঙ্গিত ব্যাখ্যা করার
বলব, চেনাচ্ছে তারা ডার্ক কমেডি
বলব, লাগাতার একই দৃশ্যে অভিনয় যেন
পর্দা নামার আগে খটোমটো শব্দটি
সক্ষম হবো, উচ্চারণ করে নিতে
আমরা একেকজন লুপ্তপ্রায় বিনয়ী মুচি
যাদের দৃষ্টি মূলত থাকে পথচারীর পায়ে,
প্রতিটি পদক্ষেপ জুতোর গড়ন দেখে
বলে দিতে পারে যারা মানুষ-চরিত
চুপচাপ গিলে নেয় খিদে ও খেদ আর
সরঞ্জাম কাঁধে সন্ধ্যায় ফিরে যায় বাড়ি
বিড়বিড় করা অসংখ্য মানুষ এ পাড়ায়
টোপা পানায় ভরে যায় আমাদের একমাত্র পুকুর।