আরও গোছানো বিপিএলের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ১১তম আসরের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেছে, বুধবার জানা গেল দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসরের টাইটেল স্পনসরের নামও। তবে গত ১০ আসর ধরেই অব্যবস্থাপনা আর বিতর্ক যে আসরের সঙ্গী, সেই দাগ বিপিএলের গা থেকে সহজে মুছে ফেলা কঠিন। বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন ফাহিম দিয়েছেন বিপিএলকে আরও গোছানো আয়োজনে পরিণত করার এবং দলগুলোকে আরও বেশি পেশাদারিভাবে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ফাহিম বিভিন্ন সময়ে বিপিএলের দলগুলোর সঙ্গে কোচ অথবা মেন্টরের ভূমিকায় কাজ করেছেন। খুব কাছ থেকেই জানেন খুঁতগুলো কোথায়। এবার প্রশাসকের চেয়ারে বসে সেই খুঁতগুলো যতটা সম্ভব নিখুঁত করার প্রতিশ্রুতি তার।

‘আগের যে কোনো বিপিএল থেকে এবার আলাদা হবে। এসবকে রূপ দেওয়াটা সহজ হবে না, আমরা জানি। তবে আমরা চেষ্টা করছি’, বুধবার টাইটেল স্পন্সর ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ফাহিম। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অলিম্পিকের অভিজ্ঞতা বিপিএলে কাজে লাগিয়ে এই আসরকে দর্শকদের জন্য মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতার মঞ্চ হিসেবে তৈরি করতে বিসিবি বদ্ধপরিকর, জানালেন এই বিসিবি পরিচালক, ‘কয়েকটা ব্যাপারে এবার পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা আছে। প্রথমত, খেলা দেখতে যারা আসবেন, তারা যেন একটি ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরত যেতে পারেন। স্টেডিয়ামে ঢোকা থেকে শুরু করে খেলা দেখা এবং বাড়ি ফিরে যাওয়া, সবকিছুতে যেন ভালো অভিজ্ঞতা হয়। বাবা-মা যেন তার ছেলেমেয়ে নিয়ে মাঠে আসতে পারেন, খেলাটা উপভোগ করতে পারেন এবং ভালোভাবে ফিরে যেতে পারেন, এখানে একটা বড় পরিবর্তনের চেষ্টা আমরা করব।’ বিসিবি এরই মধ্যে বিপিএলের জন্য ই-টিকেটিং-এর ব্যবস্থা করেছে, ফলে টিকিট কালোবাজারি সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে হয়তো রেহাই মিলবে। মাঠে দর্শকদের তো বটেই, রাজনৈতিক কর্মী থেকে মৌসুমি নিরাপত্তারক্ষী বনে যাওয়া ওয়াকিটকি বাহিনীর হেনস্তা থেকে পরিত্রাণ মেলে না সংবাদর্মীদেরও। এবার সেই অভিজ্ঞতাও বদলে দিতে চাইছে বিসিবি, জানিয়েছেন ফাহিম, ‘একজন দর্শক যখন মাঠে আসবেন, তিনি হেনস্তার শিকার হবেন না। মাঠের ভেতর খাবারের দাম যেমন হওয়া উচিত, তেমনই যেন হয়। ওয়াশরুম সুবিধা যেন ভালো হয়। পানি খাওয়ার যেন যথেষ্ট ব্যবস্থা থাকে। এমনও হতে পারে, পানির জন্য কোনো পয়সাই দিতে হবে না। এই ধরনের ব্যবস্থাগুলো এবার থাকবে।’

বিপিএল-এর টাইটেল স্পন্সর হয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের স্পন্সর ডাচ-বাংলা ব্যাংক অনেক দিন ধরেই ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে ঠিক কত টাকায় বিপিএলের টাইটেল স্পন্সরশিপটি কিনলেন সেটা ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণে প্রকাশ করেননি অনুষ্ঠানে আসা ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন, তিনি এসেছেন বিপিএলের গ্রাউন্ডস ব্র্যান্ডিং-এর স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস-মাত্রা’র পক্ষে। আফজালও জানিয়েছেন বিপিএলকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ কাজে লাগাতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা।