পাবনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন নিয়ে শঙ্কা

অসময়ে অতিবৃষ্টির ভোগান্তি মাথায় নিয়েই পাবনায় আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে বিলম্ব আবাদের কারণে ফলন নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। রোপণের পর আবারও বৃষ্টি হওয়ায় অঙ্কুরোদগমের আগেই পচে গেছে অনেক জমির বীজ। ফলে এবার আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা চাষিদের। এ ছাড়া বীজ ও সারসহ সব উপকরণের দাম বাড়ায় চলতি মৌসুমে চাষের খরচ তোলা নিয়েই দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

পেঁয়াজ চাষিরা জানান, সাধারণত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ করেন পাবনার সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার চাষিরা। সংরক্ষণ করা না গেলেও আপদকালীন চাহিদা মেটাতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে শীতকালীন এই পেঁয়াজ। তবে এবার সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিতে জমি থেকে পানি নামতে দেরি হওয়ায় রোপণ পিছিয়ে যায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ। রোপণ করার পর আবারও বৃষ্টি হওয়ায় অঙ্কুরোদগমের আগেই পচে গেছে অনেক জমির বীজ। ফলে এবার আশানুরূপ উৎপাদন হয়তো হবে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশ পেঁয়াজই উৎপাদন হয় পাবনায়। সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়াসহ কয়েকটি উপজেলায় এ পেঁয়াজের আবাদ হয়। এ বছর জেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০১ হেক্টর। এর মধ্যে মুড়িকাটা ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ১২৩ হেক্টর। এ পেঁয়াজ বাজারে আসতে রোপণের পর সর্বোচ্চ ৮০ দিন সময় লাগে। তবে এবার বৃষ্টির কারণে মাটির শক্তি বেশি থাকায় আরও কম লাগবে। সবমিলিয়ে ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ পেঁয়াজ বাজারে উঠবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

তবে কৃষকরা আছেন শঙ্কায়। বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে বীজের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য। গত বছর ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা মণের বীজ এবার কিনতে হচ্ছে ৯ হাজার টাকায়। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি দাম লোকসানের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে চাষিদের। হাজার টাকার এক বস্তা বিএডিসি ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার এবার ১২০০-১২৫০ টাকা আর ১৫০০ টাকার বাংলা ডিএপির দাম হয়েছে ১৭০০-১৮০০ টাকা। একইভাবে শ্রমিক মজুরিসহ সবদিক থেকে খরচ বেড়েছে।

সুজানগরের মুজাহিদপুরের পেঁয়াজ চাষি আরিফ বলেন, জমি থেকে বৃষ্টির পানি নামতে দেরি হওয়ার ফলে এবার পেঁয়াজ রোপণে আমরা পিছিয়ে গেছি। উপযুক্ত না হওয়ায় এখনো কিছু জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করা হয়নি। এই পিছিয়ে পড়ার কারণে এবার পেঁয়াজের ফলনে মার খাবো আমরা। কারণ দেরিতে রোপণ করা গাছের ফুল বেশি হয়, অন্যদিকে ফলন কম হয়। এমনিতে বিঘা প্রতি ফলন ৬০ মণ হলে এবার ৫-১০ মণ করে কম হবে। আবার বাজারে উঠতেও দেরি হবে। ফলে ভালো দাম পাওয়া নিয়েও আছি শঙ্কায়।

তবে কৃষিবিভাগের ভাষ্য, রোপণে বিলম্ব হলেও বৃষ্টিতে বেড়েছে মাটির শক্তি। ফলে সেচের খরচও। সঠিক পরিচর্যা পেলে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) রোকনুজ্জামান বলেন, বৃষ্টির ফলে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এবার পাবনায় পেঁয়াজ রোপণ হয়েছে। তাতেও কৃষকরা পিছিয়ে নেই, কারণ নভেম্বর অবধি মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের সময় থাকে। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে নিচু জমির খুবই অল্প পেঁয়াজ পচতে পারে। এক্ষেত্রে ফলনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন পাবে এবং ভালো দাম পেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।