সিলগালা করা দোকানপাট খুলে দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম নগরের হাজারি গলির স্বর্ণ ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সিলগালা করা সব দোকানপাট খুলে দেয়। এরপর স্বাভাবিক হতে শুরু করে হাজারি গলির ব্যবসা-বাণিজ্য।
আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে সরেজমিন দেখা গেছে, বক্সি বিটের দিকে হাজারি গলির প্রধান ফটক পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সেখানে দায়িত্বপালন করছেন সশস্ত্র আনসার সদস্যরা। অপরদিকে সিনেমা প্যালেসের দিক থেকে হাজারি গলি ঢোকার ফটকটিও বন্ধ দেখা গেছে। তবে সেটির পকেট দরজা খোলা আছে। এই দরজা দিয়ে যাতায়াত করছেন নারী-পুরুষ। হাজারি গলির ভেতরে ঢুকে দেখা গেছে, সব দোকানপাট বন্ধ।
ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের ছুটির দিন হওয়ায় দোকানপাট খোলা হয়নি। এক ব্যবসায়ী জানান, ছুটির দিন শুক্রবারেও হাজারি গলির কিছু দোকানপাট খোলা হয়। কারণ স্বর্ণালংকার ব্যবসা ছাড়াও ওষুধের পাইকারী মার্কেট এই হাজারি গলি। এখান থেকে শুধু চট্টগ্রাম নয়, আশপাশের অনেক জেলা থেকে ক্রেতারা আসেন পাইকারী ওষুধ কিনতে।
নাম প্রকাশ না করে একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলগালা করা দোকানপাট প্রশাসন খুলে দিলেও তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। কখন আবার কী হয়, সে চিন্তায় বিভোর তারা। এদিকে প্রধান ফটক বন্ধ এবং আনসার সদস্যদের দেখে অনেক ক্রেতাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তদের লুটপাট থেকে রক্ষা করতে স্বর্ণ ও ওষুধের দোকান সিলগালা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু হাজারি গলিতে ঢোকার প্রধান ফটক সেখানকার ব্যবসায়ীরাই বন্ধ রেখেছে। চন্দন নাথ নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর যারা হামলা করেছে শুধু তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমাদের আশা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
প্রসঙ্গত, সনাতনদের সংগঠন ‘ইসকন’ নিয়ে হাজারি গলির মিয়া শপিং সেন্টারে ‘মোল্লা স্টোর’ এর মালিক ওসমান আলী নামে এক ব্যবসায়ী ফেসবুক স্টাটাসকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। ভাঙচুর করে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির কাঁচ। এতে পাঁচ সেনা এবং ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। এক পুলিশ সদস্যের গায়ে এসিডও ছুড়ে মারা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাবাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ৮২ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার রাতে বাদী হয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এতে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে গত বুধবার দুপুরে সেনাবাহিনী এবং বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশ পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলাকারীরা ইসকন সমর্থক বলেও দাবি করা হয়। তবে ইসকন এই অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে।
এদিকে মামলার এজাহারভুক্ত ৪৯জনসহ মোট ৫৩জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে যৌথ বাহিনীর পাহারায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন অরজিত খাস্তগীর, টিপু নন্দী, মিশু কর ও বলাই চক্রবর্তী। এদিকে ফেসবুকে ইসকন বিরোধী পোস্ট শেয়ারকারী সেই ওসমান আলীকেও ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।