আমতলীতে সাংবাদিকদের জীবন নাশের নাশের হুমকি! 

বরগুনার আমতলীতে সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের জনসম্মুখে জীবন নাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। 

আমতলী থানায় করা সাধারণ ডায়েরি ও সূত্র থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের আমরাগাছিয়া খেলার মাঠে ফুটবল খেলা চলছিল। উক্ত ফুটবল খেলার আয়োজনকারীরা অবৈধভাবে রাস্তা বন্ধ করে লটারি বিক্রি করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আমতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সজীব আহমেদ এর নেতৃত্বে কয়েকজন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে যায় এবং তথ্য সংগ্রহ করে।

সাংবাদিকরা খেলার আয়োজকদের অবৈধভাবে রাস্তা বন্ধ করে লটারি বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করার কারণে অবৈধ লটারি বিক্রেতা আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আমড়াগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. রহিম মোল্লা (৫০), রহিম মোল্লার ছেলে শান্ত (২২) ও কুকুয়া ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড হরিমৃত্যুঞ্জয় এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল চৌকিদারের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন চৌকিদার (৪০) প্রকাশ্য স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদল দফাদার, মো. আউয়াল দফাদার ও আমড়াগাছিয়া বাজারের পরিবহন কাউন্টার ব্যবসায়ী লক্ষন শীলসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে সাংবাদিক সজীব আহম্মেদসহ তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের জীবন নাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করেন।

হুমকি প্রদানকারীরা আরও বলেন, সাংবাদিক সজীব যদি তাদের (অবৈধ লটারি বিক্রেতাদের) এই সংবাদ প্রচার করে তাহলে সজীবসহ তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের প্রাননাশসহ যেকোনো প্রকার ক্ষতিসাধন করবে।

অবৈধ লটারি বিক্রেতাদের হুমকির শিকার ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাংবাদিক সজীব আহম্মেদ (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রহিম মোল্লা, শান্ত মোল্লা ও মোয়াজ্জেম হোসেন চৌকিদারসহ মোট তিনজনকে আসামি করে আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

জীবননাশের হুমকি প্রদানকারীদের দৃষ্টান্তমুলক বিচারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. শাহাবুদ্দিন পান্না, আমতলী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. জাকির হোসেন. আমতলী রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সভাপতি মো. হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যা. সৈয়দ নুহু উল আলম নবীন, আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসাইন আলী কাজী, বাংলাদেশ মফাস্বল সাংবাদিক সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব সাইফুল্লাহ নাশির,  আমতলী মফাস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. মনির হোসেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব আমতলীর সভাপতি বায়েজিদ তালুকদার, চ্যানেল আমতলীর বার্তা সম্পাদক কামরুল হাসান সায়মন, আমতলী সাংবাদিক ক্লাবের সভাতি শাহ মু. সুমন রশিদ.  আমতলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আবু সাইদ খোকন।

আমতলী সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজানসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা।  
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফ উল  ইসলাম বলেন তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।