সাভারের আশুলিয়ায় দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় নাজমুল মোল্লা (৩৫) নামের এক ডিস ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই ব্যাবসায়ী বর্তমানে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। চাঁদা দাবি ও মারধরের বিষয়টি জানিয়ে আহত ডিস ব্যবসায়ী বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার এসআই মাসুদ আল মামুন। এর আগে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর বুড়িপাড়া এলাকায় মারধরের শিকার হন তিনি।
ভুক্তভোগী ডিস ব্যবসায়ী নাজমুল মোল্লা আশুলিয়ার নরসিংহপুর বুড়িপাড়া এলাকার আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে এবং ওই এলাকার সিফাত স্যাটেলাইটের কর্ণধার।
অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন, আশুলিয়ার নরসিংহপুর বুড়িপাড়া এলাকার মজিবর মোল্লার ছেলে কাদের মোল্লা (৪৫) একই এলাকার মাসুম আলীর ছেলে কামরুল (২২), আনছুর আলী মোল্লার ছেলে সোহাগ মোল্লা (২৮) ও সাদ্দাম (২৪), জসীম মোল্লার ছেলে আব্বাস আলী (৩৪) এবং মজিবর মোল্লার ছেলে মিঠুন মোল্লা (২৬)।
ভুক্তভোগী ডিস ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তিনি এলাকায় ডিস ব্যবসা করছেন। কিছুদিন ধরে বুড়িপাড়া এলাকার কাদের মোল্লা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তাকে চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে পারব না জানিয়ে আমার ব্যাবসা ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, কাদের মোল্লার দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় শুক্রবার রাতে ডিস বিল তুলে বাড়ি ফেরার পথে বুড়িপাড়া মুড়ে পৌছলে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা কাদের মোল্লার নেতৃত্বে আরো ৫ যুবক আমার গতিরোধ করে। এ সময় ডিস বিল কেন তুলছি তা জানতে চেয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে আমার কাছে থাকা ডিস বিলের ৩৮ হাজার টাকা এবং একটি আই ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে আমার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে আসেন । বর্তমানে আমি ভয়ে আছি হামলাকারীরা আমার ব্যাবসা ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে তাদের মোবাইলে ফোন করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এবং তারা এলাকায় নেই বলে জানা গেছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আল মামুন বলেন, ডিস ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক, ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর থেকেই ওই এলাকার ডিস ব্যবসার দখল নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।