জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলা লীগ নেত্রী জহুরা বেগমের রাস্তার ঠিকাদারী কাজ চাইলেন যুবদলের নেতা মাহবুবুর রহমান লাভলু। এ ছাড়াও মামলার চার্জশীট থেকে ওই যুব মহিলা লীগ নেত্রীর নাম বাদ দেওয়ার কথাও শোনা যায়। এমন একটি ফোনালাপের অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের কথোপকথন নিয়ে উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যুবদল নেতা ও যুব মহিলা লীগ নেত্রীর ওই কথোপকথনের অডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা ছাড়িয়ে জেলা শহরে ওই অডিও ক্লিপ নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। কথোপকথনের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও বিভ্রান্ত হয়েছেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুইজনের ফোনালাপ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে যুব মহিলা লীগ নেত্রীর মোবাইল ফোন।
যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান লাভলু উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে যুব মহিলা লীগ নেত্রী জহুরা বেগম উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
কথোপকথনের ফোনালাপে শুনা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি জহুরা বেগম উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান লাভলুকে ফোন করেন। ফোন রিসিভ করার পর যুবলীগ নেত্রী জহুরা বেগম সালাম দেন। জবাবে যুবদল নেতা জিজ্ঞেস করেন, ভালো আছেন। জবাবে যুবলীগ নেত্রী বলেন, কই ভালো ভাই, ভালো আর থুলেন কই শেষ পর্যন্ত। জবাবে যুবদল নেতা বলেন, আপনাগর (আপনাদের) এলাকার গামা উকিল এগুলো করছে। তখন যুবলীগ নেত্রী বলেন, মানিক ভাই বলে জানে। জবাবে যুবদল নেতা বলেন, মানিক ভাই আপনার বিষয়টা জানে না। তখন যুবলীগ নেত্রী বলেন, তালিকা বলে দেখেই দিছে। তালিকা বলে না দেখে দেয় না। থানায় দেওয়ার আগে বলে তালিকা দেখে দেয়। জবাবে যুবদল নেতা বলেন, এবেই (এমনি)।
এসময় আরও বলেন, এখন আমাদের ভাইস চেয়ারম্যানগীড়ি ফেরত দিব। কাল পরশুর মধ্যে রিট করতে হতেছে। উপদেষ্টারা বলছে ভাইস চেয়ারম্যানদের পদ বহাল আছে। এহন এগুলার মধ্যে মামলা দিয়ে থুইলো কেমনে কী করি কন। জবাবে লাভলু বলেন, আরেক ঝামেলা। তখন যুবলীগ নেত্রী জিজ্ঞেস করেন, এডা কি চার্জশীট থেকে কাটা যাবো। তখন যুবদল নেতা বলেন, চার্জশীট থেকে কাটা যাবো। তহন (তখন) আপনি যোগাযোগ কইরেন, কেটে দিমুলাই। এখন কোন কিছু করা যাবো না। এখন মানিক ভাইয়ের সাথে কথা বলে দেখি। তখন জহুরা বেগম বলেন, মানিক ভাইয়ের সাথে বসা লাগবো। যুবদল নেতা বলেন, হ মানিক ভাইয়ের সাথে আমি কথা বলমুনি। আমি তো বের হতে পারছি না। আজকে উপজেলা থেকে কাগজপত্র নিলাম। কোর্টে যাইতে হয়তাছে। সবাই রিট করবো ১১ তারিখের মধ্যে। রিট করতে বলছে উদদেষ্টারা। এলাকায় যদি না থাকতে পারি, জনগণের কাজ যদি করতে না পাই। শুধুমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান থাকবো না।
তখন যুবদল নেতা লাভলু বলেন, আপনার বলে কাজ আছিলো কই। যুবলীগ নেত্রী জহুরা বলেন, হ। ওটা আমাকে দেন, আমি করি। তখন যুবলীগ নেত্রী বলেন, আমার তো নিজস্ব কোনো কাজ নাই। যুবদল নেতা বলেন, নাই, শুনলাম রাস্তার কাজ আছে। ওডা আমার না বলেন যুবলীগ নেত্রী। এল্যা মানসে এবেই কথা। ফেইসবুকে দিছে আমি কোটি কোটি টাকা হেই করছি সেই করছি। এ সময় জহুরা আবারো মানিক সওদাগরের সাথে যুবদল নেতাকে বসার কথা বলেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে দিয়ে মামলার কথা বলেন। তখন আমি পাশকাটানোর জন্য বলেছি চার্জশীট থেকে নাম কাটে দিমুনি।’
বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মানিক সওদাগর বলেন, ‘উপজেলা যুবদল সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান লাভলু সাথে যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও উপজেলা সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ফোনালাপের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান সজিব বলেন, ‘আমার কাছেও তাদের ফোনালাপের রেকর্ড এসেছে। তদন্ত করে প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’