ঢাবিতে আর কোনও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম হবে না: ঢাবি ছাত্রদল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের ওপর বিদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হেনস্তা ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

আজ রবিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ সময় তারা 'ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও-আওয়ামী লীগের আস্তানা', ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও-ছাত্রলীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও-খুনি হাসিনার আস্তানা', 'জ্বালোরে জালো-আগুন জ্বালো, ভারত যদি বন্ধু হও-হাসিনাকে ফেরত দাও', 'আবু সাঈদ মুগ্ধ-শেষ হয়নি যুদ্ধ, আবু সাঈদের রক্ত-বৃথা যেতে দেব না', 'বাংলাদেশ বাংলাদেশ- জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, ছাত্রলীগের গুন্ডারা- হুঁশিয়ার সাবধান', 'আওয়ামী লীগের ঠিকানা-এই বাংলায় হবে না', 'ফাঁসি ফাঁসি চাই-খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই, আমার ভাই কবরে-খুনি কেন ভারতে'সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে টিএসসি ঘুরে কেন্দ্রীয় মসজিদ-মধুর ক্যান্টিন-লেকচার থিয়েটার থেকে শ্যাডো হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে ভিসি চত্বরে এসে পুনরায় টিএসসিতে শেষ হয়। এখানেই সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সংগঠনটি। এ সময় নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে আর কোনও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম হবে না বলে মন্তব্য করেন।

সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, বিগত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদ থেকে দুমড়ে-মুছড়ে পড়ে ওই ভারতে পালিয়ে গিয়ে এখন পর্যন্ত তার ষড়যন্ত্রের যে জাল বুনছেন তা থামিয়ে রাখেননি। তার নেতাকর্মীদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশে আরেকটি প্রতি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের রাজনীতির আঁতুড়ঘর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ বাংলাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে হাসিনা ওয়াজেদ তার সেই খুনি, সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়ে তার ষড়যন্ত্রের জাল বুনেই যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, গত জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা যেভাবে ছাত্র জনতার সাথে সমন্বয় করে সম্মুখ সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না। আমরা জানি, বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ছাত্র সমাজের আইকনিক একটি সংগঠন হিসেবে ছাত্র সমাজের কাছে দেখা দিয়েছে। এজন্য আমি আমার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে বলে দিতে চাই, আপনারা আপনাদের আচার-আচরণ চালচলন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করবেন। কোনোভাবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। হলগুলোতে ফ্যাসিবাদের দোসররা যেভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ইমেজকে সংকটে ফেলার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সেই জালের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন অনুযায়ী যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে সেই সরকার দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের জনগণ যে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সেই ভোটাধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী দোসরেরা এখনো দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আজকে তারা বিদেশের মাটিতে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে সেই সরকারের আইন উপদেষ্টা, বাংলাদেশের বিবেক খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে হেনস্তা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকের সারাদেশে ফ্যাসিবাদের দোসরেরা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, গুপ্ত হামলা করছে। গণতন্ত্রকামী আমি মানুষের ওপর বিভিন্ন চোরা-গুপ্ত হামলা করে আহত করছে। বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগদের যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাহাজানি, ছিনতাই, চুরি, ধর্ষণ, ডাকাতি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গেস্টরুম, গণরুমের মাধ্যমে নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়েছে। আজকে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এই সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর কোনও গেস্টরুম, গণরুম প্রক্রিয়া ফেরত আসবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে আর কোনও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম হবে না।