ফিলিপাইনের নতুন সামুদ্রিক আইনের বিরোধিতা করেছে চীন। সম্প্রতি নিজেদের সামুদ্রিক সীমানার সুরক্ষায় দুটি আইনে অনুমোদন দেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কো জুনিয়র। তার জবাবে বেইজিং বলছে, এটি দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গতকাল রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার রক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তারা। বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপকে এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বাড়ানোর অব্যাহত প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটাই নিজেদের বলে দাবি করে থাকে চীন। যার মধ্যে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেইয়ের বিভিন্ন দ্বীপপুঞ্জ এবং সংলগ্ন জলসীমা রয়েছে। ফলে এই দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে সীমানা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই বেইজিংয়ের উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে বিতর্কিত স্কারবরো শোল নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক জলসীমার’ ভিত্তি সম্পর্কে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল বেইজিং। এই অঞ্চলকে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে থাকে। স্কারবরো শোলকে চীন হুয়াংইয়ান দ্বীপ নামে অভিহিত করে থাকে। এই দ্বীপের মালিকানা ও মৎস্য আহরণ অধিকার নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। চীন তাদের দাবির সমর্থনে সাগরের মাঝখানে অনেক কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে এবং নৌবাহিনী পাঠিয়ে টহল দিচ্ছে। তবে ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনের দাবির সমর্থনে নিজেদের যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ।
ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ চীন সাগর বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি প্রধান সমুদ্রপথ। জাতিসংঘের বাণিজ্য এবং উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আংকটাডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথের মাধ্যমে হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে এখানে মৎস্য সম্পদেরও প্রাচুর্যতা রয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্ব রয়েছে দ্বন্দ্বে জড়িত প্রতিটি দেশের কাছেই। প্যারাসেল এবং স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ প্রায় মানব বসতিহীন। নিকটবর্তী অন্যান্য অঞ্চলে পাওয়া খনিজ সম্পদের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, দুটি জায়গাতেই হয়তো প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। সেটিও এই দ্বন্দ্বের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।