মার্কিন রুশ কূটনীতিতে নতুন গল্প!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউজে যাচ্ছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্পকে অভিবাদন জানিয়েছেন বিশ্বনেতাদের অনেকেই। তবে সে তালিকায় ছিল না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তাই বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও চলছিল কয়েকদিন ধরে। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সোচি শহরে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের জয়ের পর তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেন পুতিন। তবে গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, দুদেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সরাসরি ফোনালাপ হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে জয়ের পর গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে ফোন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ইউক্রেনে যুদ্ধ সম্প্রসারণ না করতে পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মালিকানাধীন ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসোর্টে অবস্থানকালে দুজনের মধ্যে এই আলোচনা হয়েছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। গতকাল সোমবার প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুকে নিরেট গালগল্প বলে আখ্যা দিয়েছে ক্রেমলিন।

ফোনালাপের বিষয়ে জ্ঞাত একাধিক সূত্রের নাম গোপন রেখে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ইউরোপের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি পুতিনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে ফোনকলের বিষয়ে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গত বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। এ সময় তাদের কথোপকথনে যুক্ত ছিলেন রিপাবলিকানদের কড়া সমর্থক ও ধনকুবের ইলন মাস্ক। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানতে ট্রাম্পের প্রচার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কথোপকথনের বিষয়ে আমরা কিছুই প্রকাশ করব না। এমনকি এই ফোনালাপের বিষয়ে ওয়াশিংটনে রুশ দূতাবাসও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তবে গতকাল ফোনালাপের বিষয় নিয়ে একদম বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া। ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনকে নিরেট গালগল্প বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই টেলিফোন আলাপের বিষয়ে বলেন, এটা সর্বৈব মিথ্যা এবং নিরেট গালগল্প। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে কোনো ধরনের ফোনালাপ হয়নি। সেই সঙ্গে পেসকভ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার জন্য পুতিনের নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।

ট্রাম্প অতীতে অনেকবারই দাবি করেছেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না। এমনকি নির্বাচনের আগে একাধিকবার তিনি দাবি করেন, আবারও প্রেসিডেন্ট হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবেন তিনি। তবে কী উপায়ে প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের রাশ টানবেন, সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনার কথা জানাননি ট্রাম্প। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেওয়া কোটি কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় অনেক বিশ্লেষকই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা দেখছেন। তবে দুদেশের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন আলোচনার সৃষ্টি করল।

এদিকে, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ থাকা অবশিষ্ট ৬০০ কোটি ডলার খরচ করতে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান এ তথ্য জানান। এ সময় ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তবে আগামী বুধবার হোয়াইট হাউজে বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। সে বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষ ত্যাগ না করতে ট্রাম্পকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেন পরামর্শ দিতে পারেন বলেও জানান তিনি।