নেতানিয়াহুর আদেশেই পেজার বিস্ফোরণ

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। যার শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরের ১৭ ও ১৮ তারিখে লেবাননে একযোগে কয়েক হাজার পেজার বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে। এ ঘটনার পরপরই এর পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত বলে দাবি করে আসছিল ইরান ও হিজবুল্লাহ। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই পেজার হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসরায়েল।

গত রবিবার নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ওমের ডস্ট্রি বলেন, লেবাননে যোগাযোগ যন্ত্রে বিস্ফোরণ ঘটানোর অনুমতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার অনুমোদন সাপেক্ষেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত পেজারে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করে। ওই হামলায় লেবাননে ৪০ জনের বেশি নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। ইসরায়েলের নজরদারি এড়াতেই পেজারের মতো মৌলিক যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করা শুরু করেছিল হিজবুল্লাহ। কেননা এর অবস্থান শনাক্ত করা অনেকটাই কঠিন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত লেবাননে বিরামহীনভাবে আকাশ ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব।

গত দুই মাসে ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে হিজবুল্লাহ। হামলায় দলটির দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন। এরপর তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হাশেম সাফিউদ্দিনকেও হত্যা করে ইসরায়েল। গোষ্ঠীটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেকা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা জারি রেখেছে ইসরায়েল। এমনকি এর জেরে ইরানের সঙ্গেও সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে তেল আবিব, যা মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা অনেকগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখ-, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় ৯৪ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার গাজা ভূখ- জুড়ে অন্তত ৪৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর গাজার জাবালিয়াতেই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী বৈরুতের উত্তরে আলমাত গ্রামে হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাত  জন শিশু। আর সিরিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও সাতজন। ইসরায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে হিজবুল্লাহও। সোমবার পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চল লক্ষ্য করে লেবানন থেকে ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি জানিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও।