আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়ে এই সম্মেলন চলবে আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। জাতিসংঘের বার্ষিক এই জলবায়ু সম্মেলন কনফারেন্স অব পার্টিস বা কপ নামে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে প্রতিবছর সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরা একত্র হন। এবার বাকুতে কপ সম্মেলনের ২৯তম আসর বসেছে। এবারের সম্মেলনের মূল উদ্দেশে জলবায়ু সংকটের ভুক্তভোগী দরিদ্র দেশগুলোকে আরও অর্থসহায়তা দেওয়ার পথ খুঁজে বের করা।
১৯৯২ সালে জাতিসংঘের ‘ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী প্রায় ২০০ দেশ কপের সদস্য। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সমাধানের লক্ষ্যে এবারের সম্মেলনে এই দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা ৭০ হাজারের বেশি প্রতিনিধিসহ একত্রিত হবেন।
এবারের কপ-২৯ সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে অর্থের জোগানকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির অনুযায়ী বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২০৩০ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। এ লক্ষ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে ২০২৫ সাল নাগাদ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থসহায়তা দিতে রাজি হলেও, এখন পর্যন্ত সেই সহায়তার পরিমাণ সন্তোষজনক নয়। আবার উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকা বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণকারী চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই সহায়তা তহবিলে অর্থের জোগান না দেওয়ায় তুলনামূলক ছোট অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সে জলবায়ু সংকট সমাধান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা সতর্ক করে বলেছে-২০২৪ সাল হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। জলবায়ু সংকট সমাধানে উৎসাহ দিতে সম্মেলন শুরুতে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীরা জোগ দিয়ে থাকেন। তবে এবার বড় কয়েকটি অর্থনীতি এবং সর্বাধিক কার্বন নিঃসরণকারী দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এবারের সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না। এদের মধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।