রাজধানীর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে ‘ভাসকুলার অ্যাপ্রোচ টু প্রিভেন্ট এমপুটেশন’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডা. নাজমুল হকের সঞ্চালনায় আজ মঙ্গলবার কলেজটির শহীদ মীর কাশেম আলী মাল্টিপারপাস হলে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের শিক্ষক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার এবং বিভিন্ন বর্ষের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাজেদ আব্দুল খালেক। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জিএম মকবুল হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক ডা. একেএম জিয়াউল হক, ডিরেক্টর এডমিন অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, অর্থোপেডিকস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. পারভেজ আহসান।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ অর্থাৎ হৃদ্রোগ এবং রক্তনালী ব্লকজনিত কারণে ঘটে এ সকল ঘটনা। রক্তনালী ব্লক হলে হাঁটতে গেলে পায়ে ব্যথা হয়। একটি পর্যায়ে গ্যাংরিন বা পচন ধরে। চিকিৎসার একটি পর্যায়ে পা কেটে ফেলতে হয়। রোগী পঙ্গুত্ববরণ করেন। এভাবে প্রতিবছর হাজারো রোগীকে পা কেটে ফেলতে হয়। ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, বাড়তি ওজন কারণ পরিশ্রমের অভাবসহ বিভিন্ন কারণে রক্তনালী ব্লক হতে পারে।
রক্তনালির আল্ট্রাসনোগ্রাম, এ্যানজিওগ্রাম পরীক্ষা করে ব্লক নিরূপণ করা যায়। কাটা ছেড়া না করে স্টেন্ট বা রিং পরিয়ে রক্তনালী চালু করা যায়। এছাড়াও রয়েছে রক্তনালী বাইপাস অপারেশন। ধূমপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাটাহাটিতে সুস্থতার নিয়ম মেনে চললে রক্তনালী ব্লক তথা গ্যাংরিন প্রতিরোধ করা যায়। কখনো কখনো রক্তজমাট বেধে রক্তনালী ব্লক হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাত্র ০৪-০৬ ঘণ্টার মধ্যে রক্তনালী চালু না করলে পা নষ্ট হতে পারে।