ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজগুলো নিয়ে আলাদা পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রত্যেক নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে যে কোনো যৌক্তিক দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। ওই ৭ কলেজের নানা বিভাগে অনার্স ডিগ্রি প্রদান করা হলেও ছাত্রছাত্রীরা বলছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে হবে।
বাংলাদেশে লোকসংখ্যা বা উচ্চতর ডিগ্রি নিতে আকাক্সক্ষী ছাত্রছাত্রীর অনুপাতে বিশ্ববিদ্যালয়, অনার্স প্রদানকারী কলেজ, পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নির্ণয় করা একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়। কেননা, অনেকগুলো শর্ত, উদ্দেশ্য, জটিল কিছু ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে একটি দেশে কতটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে আমরা দেখে নিতে পারি কিছু দেশের জনসংখ্যার বিপরীতে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগুলো কেমন।
জনসংখ্যা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা
থাইল্যান্ডের লোকসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি আর সেখানে ৩১০টি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান (কলেজ সহ) রয়েছে। এদিকে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে ভারতে রয়েছে ১,১১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়, যার মধ্যে ৫৬টি হলো কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় (ভারত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে)। সেখানে ৩০৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৩৯ হাজারেরও বেশি অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে। ভারতে বিভিন্ন প্রদেশের আওতায় ৩৯৯টি স্টেট (রাজ্য) বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। মজার বিষয়, ভারতে অন্তত ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে যাদের অধীনে প্রত্যেকটিতে অন্তত ৫০০টি অধিভুক্ত কলেজ আছে। পশ্চিমবঙ্গে লোকসংখ্যা সাড়ে দশ কোটি তবে সেখানে ৪৩টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৫১টি কলেজ এবং ১৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। প্রায় ৩৪ কোটি জনসংখ্যার দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান আছে ৪,০০০টি। এর মধ্যে ১,৬০০টি হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি কলেজ ও টেকনিক্যাল কলেজ, আরও ১,৬০০টি রয়েছে অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং ৭০০টি প্রাইভেট লাভজনক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সেখানে। এদিকে, বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনগণের জন্য ৫৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যারয় ও ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
উচ্চতর শিক্ষা দরকার কেন?
আমরা জেনে এসেছি শ্রম বাজারের জন্য উৎকৃষ্ট মানের শ্রমিক তৈরি করা এবং সমাজ ও মানবতার সেবা করবার জন্য তরুণ-তরুণীদের উদ্বুদ্ধ করাই উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে ওষুধ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অধ্যয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটির একটি ব্যবসায়িক দিকও রয়েছে। সমসাময়িককালে ক্যানসার, হৃদরোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, মহামারী, স্নায়ুবিদ্যা (ও আলঝেইমার), জলবায়ুর উষ্ণায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনতত্ত্ব, মহাকাশবিদ্যা ও সমাজ বিজ্ঞানের নানা দিক নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণাকর্ম চলছে। এই আলোচনাটি এখানে প্রসঙ্গিক এ কারণে যে আমরা জানতে চাই বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা এগিয়ে নিচ্ছে? অর্থাৎ, বাংলাদেশকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান কোথায়? পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে একটি সূচক রয়েছে যেটিকে কিউএস সূচক বলা হয়। এই সূচক অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ২০২৪ সালে হয়েছে ৬৯১-৭০০, বুয়েট ৮০১-৮৫০, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ৮৫১-৯০০ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ১০০১-১২০০ এর মধ্যে। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পর বাংলাদেশ তার অন্তত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সম্মানজনক বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করতে পারত। এই সূচকে ভালো করার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জাতীয় প্রতিপত্তির জন্য নয়, হাই-টেক বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, গুণগত মানের অভাবে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ১০০টি উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে পারছে না।
সাতটি কলেজ কেন বিশ্ববিদ্যালয় হতে চায়?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট কমাতে অধীনস্ত কলেজগুলোকে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৭ সালে। ওই বছরই পরিকল্পনাহীনভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হয় রাজধানীর বড় সাতটি কলেজ। তিন বছর পর দেখা গেল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদবাকি কলেজগুলোর তুলনায়ও পিছিয়ে পড়েছে এই কলেজগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই সাতটি সরকারি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। কয়েক বছর আগের এক হিসাব অনুযায়ী, এসব কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বর্তমানে এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং এক হাজার ১৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। এদিকে, বিশ্বব্যাপী তালিকাভুক্ত গত ২০ বছরে তৃতীয় স্তরের শিক্ষাগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এক হিসাবে দেখানো হয়েছে ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় ছাত্রছাত্রীদের বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণ ১৯ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিতের হার বেশি। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে উন্নত মানের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
শ্রম বাজারের চাহিদা : যাদের জ্ঞান সুবিস্তৃত এবং বিশেষ ক্ষেত্রে দক্ষতা রয়েছে, এমন লোকদের চাহিদা শ্রম বাজারে বাড়ছে। প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবের কারণে অনেক দেশ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ((OECD)’র দেশগুলোতে ৫৮ শতাংশ তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্করা তাদের জীবদ্দশায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা নিয়ে থাকেন বলে ধারণা করা হয়। এদিকে, যুক্তরাজ্যে ২৫-৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫১ শতাংশ লোকজনেরই উচ্চশিক্ষা রয়েছে।
উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য পুরো পৃথিবীকে এগিয়ে নেওয়া
The Organisation for Economic Co-operation and Development (OECD) তাদের ৩৮টি সদস্য রাষ্ট্র ও ১২টি অনুগামী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে থাকে। তাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী মানুষের কল্যাণকে এগিয়ে নেওয়া। বলা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন পটভূমির মানুষ অধিক আয় করার সুযোগ পেয়ে থাকেন, তবে সুবিধাভোগীদের নাগালের মধ্যে এই শিক্ষা থাকতে হবে। এই শর্ত মানলে তবেই এটি সমতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে যা কিনা প্রান্তিক গোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়কেও সামনে এগিয়ে নেয়। তৃতীয় স্তরের শিক্ষা লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে যথার্থ সমর্থন দেয়। যখন উচ্চতর শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং নারী, সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি ‘গেটওয়ে’ তৈরি করে, তখন এটি এই গোষ্ঠীগুলোর আর্থিক অবস্থা এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রকে আরও ব্যাপক ও অংশগ্রহণমূলক করে। এটি সামাজিক ন্যায্যতা এবং সম্পদ বণ্টনকে উৎসাহিত করে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অর্থনৈতিক নানা সুযোগ তৈরি করে দিলেও সুবিধাগুলো অসমভাবে উন্নত দেশগুলোর পক্ষে যায়। ধনী দেশগুলোর করপোরেশনগুলো প্রায়শই স্বল্প দক্ষতার কাজগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অল্প মজুরিতে আউটসোর্স করে। পাশাপাশি, উন্নত দেশগুলো নিজেরা উচ্চ বেতনের চাকরি, উদ্ভাবন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই ব্যবস্থা নিম্নআয়ের দেশগুলোতে মজুরি বৃদ্ধি হ্রাস করে এবং উন্নত দেশগুলোতে সম্পদ তৈরি করে।
বাংলাদেশ কী করতে পারে?
গবেষণায় দেখা গেছে, সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারীরা সবচেয়ে বেশি আয় করে থাকেন। যারা প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক (আয়) প্রতিদান ১০ শতাংশ, মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ৭ শতাংশ আর উচ্চশিক্ষার জন্য আনুমানিক ১৭ শতাংশ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এই উচ্চ প্রতিদান সাব-সাহারান আফ্রিকাতে বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা গ্রাজুয়েটদের জন্য আরও বেশি, আনুমানিক ২১ শতাংশ। ফলে, উচ্চশিক্ষার হার এদেশে বাড়াতে হবে তাতে সন্দেহ নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে ২০১৮ সালে যখন প্রথম কোটা আন্দোলন হয় এবং ২০২৪ সালে আবারও যখন এই আন্দোলন ফিরে আসে, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে তরুণ প্রজন্ম শ্রমবাজারে তাদের উপযুক্ত মূল্যায়ন হচ্ছে না এমন আশঙ্কা করছেন। এর মধ্যে করোনা অতিমারীর কারণে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, যার মধ্যে জুলাই-২৪ আন্দোলনকারীদের পিতা বা মাতাও হয়তো রয়েছেন। আবার অনেকে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়া যুদ্ধের কারণে অতি মুদ্রাস্ফীতি, দেশে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বেড়ে যাওয়া, নতুন করে চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে আশার আলো টিমটিমে হয়ে যায়। তারপর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অধিভুক্তি নিয়ে টানাটানি তাদের আরও হতাশ করে।
স্বাভাবিকভাবেই এখন সরকারের উচিত হবে ছাত্রদের দুশ্চিন্তার কারণগুলো দূর করা। তাদের জন্য প্রয়োজনে আরও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যদিও এটি অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ একটি প্রকল্প; আর স্বল্প মেয়াদে তাদের দাবি অনুযায়ী ঢাবির বাইরে আলাদা ভবনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা করে দেওয়া। ছাত্রদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের দূরত্ব বেড়ে গেছে, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি গ্রাস করেছে পুরো সমাজকে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কারও ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। এই বিষয়টিতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সব কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। অর্থাৎ, সনদের মধ্যে বড় করে লেখা থাকা ‘অ্যাফিলিয়েটেড’ শব্দটি বাদ দিতে হবে। ‘বিশ্বভারতী’ প্রবন্ধে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘‘যেখানে চাষ হইতেছে, কলুর ঘানি ও কুমারের চাক ঘুরিতেছে, সেখানে এ শিক্ষার কোনো স্পর্শও পৌঁছায় নাই। অন্য কোনো শিক্ষিত দেশে এমন দুর্যোগ ঘটিতে দেখা যায় না। তাহার কারণ, আমাদের নূতন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দেশের মাটির উপরে নাই, তাহা পরগাছার মতো পরদেশীয় বনস্পতির শাখায় ঝুলিতেছে।” আমাদের আরও মনে রাখতে হবে উচ্চশিক্ষার প্রসার তথা কারিগরি শিক্ষার মান বৃদ্ধি করলে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে, যা এ সময়ের সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
govindashil@gmail.com