মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সরফদিনগর গ্রামের নাজমা বেগম হত্যা মামলায় আসামি মো. রফিক মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। সেই সাথে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. রফিক মিয়া হরিরামপুর উপজেলার সরফদিনগর গ্রামের মো, শফিকের পুত্র। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিপি এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি রফিকের সাথে প্রতিবেশী নাজমা বেগমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ২০২১ সালের ৪ জুন সকাল ৬টার সময় নাজমা বেগম সরফদিনগর চকে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার জন্য বের হলে ওৎ পেতে থাকা রফিক তাকে বাশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহন হন নাজমা। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় মন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে নাজমাকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার ছেলে মো. জনি মিয়া হরিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে থানার এস. আই মো. আরিফ উল্লাহ মামলার তদন্দ করে ২০২১ সালের ৬ জুলাই রফিককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ক্রমে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামীপক্ষের আইনজীবী রেজা ফেরদৌস আহমেদ উচ্চ আদালতে আপীল করার কথা জানিয়েছেন।