মা হারা সেই শিশুদের দেখভালে নির্দেশ হাইকোর্টের

যমজ দুই কন্যাশিশুর জন্মের কিছুদিনের মধ্যে মায়ের মৃত্যু। এর কয়েক দিন পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাবা কারাগারে। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ বছরের সাজ্জাদ আরও এক বোনসহ তিন বোনকে নিয়ে পড়েছে চরম বিপাকে। গণমাধ্যমে এমন সংবাদ নজরে আনার পর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সেই শিশুদের দেখভালে নির্দেশ দিয়েছে। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ সমাজসেবা কার্যালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার এ নির্দেশ দেয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। গতকাল সকালে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী এবিএম হামিদুল মিসবাহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি নজরে আনার পর আদালত বিস্তারিত জানতে চায়। এরপর আদেশে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়কে শিশুদের খাবার ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়। আদেশ পালন করে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয় আদেশে। তিনি জানান, গতকাল দুপুরে শিশুদের বাবা জামাল মিয়া জামিন পেয়েছেন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া গ্রামের এ ঘটনা তুলে ধরে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাজ্জাদের কোলে ফুটফুটে এক কন্যাশিশু। তার বোন সাত বছরের ফারিয়ার কোলে আরেকজন। যমজ এ শিশুরা সাজ্জাদ-ফারিয়ার ছোট বোন। এক মাস আগে যমজ শিশু জন্ম নিলেও এক সপ্তাহের মাথায় তারা তাদের মা সাথী বেগমকে হারায়। শিশুদের বাবা জামাল মিয়া কারাবন্দি (গতকাল দুপুরে জামিনে মুক্তি পান)। যমজ শিশুসহ ছোট তিন বোনকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে সাজ্জাদ। এমন পরিস্থিতিতে চার শিশু খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন পার করছে।