বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক অধ্যায় ইমরুল কায়েস, যার ক্যারিয়ারের বাঁকে বাঁকে ছিল হতাশা ও সংগ্রামের গল্প। নিজেও মানেন, নিজের সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু ভক্তদের ভালোবাসা তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। অবসরের পর, কোচিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটে নতুন কিছু অবদান রাখতে চান এই ওপেনার। ইতিমধ্যে পরিকল্পনা চলছে অস্ট্রেলিয়ায় শেন ওয়াটসনের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি ক্রিকেট একাডেমি খোলার।
পরিসংখ্যান ঘাটলে দেশের ক্রিকেটে ইমরুল কায়েস খুব বড় নাম হয়ত নয়। পরিসংখ্যানটাও সাদামাটা। যদিও বাঁহাতি এই ওপেনারের গল্পটা হতে পারতো অন্যরকম।
বাংলাদেশের এই সাবেক ওপেনার বলেন, ‘আমি যখন টেস্ট ক্রিকেট শুরু করেছিলাম, তখন আমি প্রস্তুত ছিলাম না। আমি ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য দলে ধুঁকেছিলাম। টেস্ট ক্রিকেটটা একটু কঠিন। যখন ভালো সময় কাটাচ্ছিলাম, তখন আমি ব্রেক পেয়েছি। এরপর ভারতের বিপক্ষে খেলার পর আমিতো আর দলেই নেই।’
টাইগার ক্রিকেটের এই উদ্ভট সিলেকশন প্রক্রিয়ায় কায়েসের মতো কাটা পড়েছেন অনেকে। কেবল ইমরুলের অভিষেকের পর থেকে টেস্টের ওপেনিং পজিশনেই বাজিয়ে দেখা হয়েছে ১১ ভিন্ন ক্রিকেটারকে। যাদের মধ্যে কাউকে ৩ কিংবা ৪, এমনকি কেউ বাদ পড়েন অভিষেক ম্যাচের পরই। সিলেক্টরদের ঐ মিউজিক্যাল চেয়ার গেইম চলছে এখনও। এই যেমন জাকের আলীকেই ধরা যাক। কয়েক দিনের ব্যবধানে তার মাথায় উঠেছে তিন সংস্করণের টুপি।
ইমরুল বলেন, ‘একজন ক্রিকেটারকে সময় দিতে হবে। আমি বলছি না আমি সময় পাইনি। তবে হয়তো আমি নিজেকে আমার মতো মেলে ধরতে পারিনি।’
কায়েসের টেস্ট গড় নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও পায়নি বিসিবি। বর্তমানে সাদা পোশাকের বিবেচনায় থাকা তিনজনের সঙ্গে, এই সাবেক ক্রিকেটারের পার্থক্য নেই খুব। কিছুটা হতাশা, আক্ষেপ আর ফেলে আসা অতীত। ইমরুল এখন দেখছেন নতুন শুরুর স্বপ্ন। অস্ট্রেলিয়া থেকে কোচিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়তে চান নতুন লক্ষ্য। সে দেশেই সাবেক তারকা ক্রিকেটার শেন ওয়াটসনের সঙ্গে মিলে কাজ চলছে একাডেমি খোলার।
কায়েস বলেন, ‘আমার একজন সহকর্মী আছে, সে তার ছেলেকে ওয়াটসনের ছেলের সঙ্গে অনুশীলন করায়। তো তার মাধ্যমেই (একাডেমি খোলার) প্রস্তাবটা আসে। আমার ভালো কিছু করার ইচ্ছা আছে।’
লঙ্গার ফরম্যাট ছাড়লেও ওয়ানডে ক্রিকেটটা আরও কিছুদিন চালিয়ে যেতে চান ইমরুল কায়েস।