স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

২০২১ সালে করোনা মহামারির সময়ে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় লটারি পদ্ধতিতে। এর আগে দেশজুড়ে থাকা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হত। তবে গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হচ্ছে। এই পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে শুরু থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কারের কথা বলেন। সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে। এসবের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে লটারি ভর্তি পদ্ধতি বাতিল চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। আজও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে স্কুল ও কলেজে ভর্তি পদ্ধতি চালুর দাবি জানান।

তবে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। অনেকের দাবি, লটারি পদ্ধতিতে সবার ভর্তির সুযোগ থাকে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় তা সম্ভব হয় না। তাই লটারি পদ্ধতিই ভালো। আবার একশ্রেণির দাবি এই পদ্ধতিতে মেধাবীরা ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই এই পদ্ধতি বাতিল প্রয়োজন।

এ বিষয়ে  কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. জাকিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লটারি পদ্ধতিতে ভালোর সঙ্গে আমরা খারাপ শিক্ষার্থী পাচ্ছি। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা ভালোভাবে পড়তেই পারে না। এদিকে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার সময় আমরা ভালো শিক্ষার্থী পেতাম। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। তাই লটারির বদলে ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে মেধাবীরা ভর্তির সুযোগ পাবে।

তবে ভর্তি পরীক্ষা চেয়ে লটারি পদ্ধতি অধিক কার্যকর বলে মতামত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. নূরে আলম সিদ্দিকী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মতো স্কুলে ভর্তিতে ভর্তি পরীক্ষার বদলে লটারি পদ্ধতি অধিক কার্যকর। কারণ এই পদ্ধতিতে সবাই ভর্তির সুযোগ পায়। এই পদ্ধতির বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা শিশুদের মনে নীতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়। এতে উত্তীর্ণ হতে না পারলে ছোট বয়সেই তাদের মনে হেরে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়। যা শিশুদের মনে নীতিবাচন প্রভাব তৈরি করে। এজন্য আমি লটারি পদ্ধতি চালুর পক্ষে।’