পেরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত শনিবার লিমায় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন ফোরামের এক ফাঁকে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দুই নেতার মধ্যে সাইবার অপরাধ থেকে বাণিজ্য, তাইওয়ান ও রাশিয়ার মতো মতবিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় পরবর্তী ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
গত সাত মাসের মধ্যে এটিই বাইডেন ও শির মধ্যে প্রথম বৈঠক। প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। বাইডেনকে চীনের রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, সদ্য সমাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সম্পর্ক রাখার বিষয়ে চীনের লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে উত্থান-পতন থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। তিনি জানান, চীন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে, সহযোগিতা বাড়াতে এবং পার্থক্য সামলে চলার বিষয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার আমেরিকা ফার্স্টনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্য আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে বেইজিং। এ ছাড়া নিজের নতুন প্রশাসনে চীনবিরোধী কঠোর মনোভাব রয়েছে এমন বেশ কয়েকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিওকে তার প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মাইক ওয়াল্টজের মতো চীন বিরোধীদের নিয়ে এসেছেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার অপরাধের বিষয় নিয়েও কথা বলেন বাইডেন ও শি জিনপিং। এ ছাড়া তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসন এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও দুই নেতা বিস্তারিত আলাপ করেছেন। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার বিষয়েও চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন বাইডেন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার গভীর সম্পর্ক ও ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে দেশটির সেনা মোতায়েন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন। এর পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন জো বাইডেন ও শি জিনপিং।