অমিত ১০১ ইমরুলের ১

খুলনার প্রথম ৪ ব্যাটসম্যানের ৩ জনের সম্মিলিত টেস্ট অভিজ্ঞতা ৫৪ ম্যাচের। সেই দলটাই কিনা ঢাকা বিভাগের অনভিজ্ঞ বোলারদের সামনে দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ৯১ রানে। ১০ টেস্ট খেলা মোহাম্মদ মিথুন, ৩৯ টেস্ট খেলা ইমরুল কায়েস আর ৫ টেস্ট খেলা এনামুল হক বিজয়; এই তিনজনের সম্মিলিত অবদান ১১ রান। বিজয়ের ১০, ইমরুলের ১ আর মিঠুনের ০।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের টেস্টে ভালো করতে না পারার প্রধান কারণ হিসেবে বারবার বলা হয় ঘরোয়া লিগের মানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পার্থক্য। তবে সেসব যে অনেকটাই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা সেটা বোঝা যায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের রান দেখে। দেশের শীর্ষ বোলারদের বাইরে থাকাদের বোলিং মিরপুরের চেনা উইকেটে  সামলাতেই তাদের নাভিশ্বাস ওঠে, লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেও তাদের ব্যাটিংয়ের খুব একটা উন্নতি যে হয়নি তারই প্রমাণ যেন দিলেন খুলনার তিন ক্রিকেটার।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের পঞ্চম রাউন্ড চলছে। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে চলছে খুলনা-ঢাকা ম্যাচ। এই মাঠেই জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলা, অনুশীলন সবকিছুরই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ইমরুল, মিঠুন, বিজয়ের। এ সবের বাইরে ঢাকা লিগ থেকে শুরু করে বিপিএল, কম তো খেলেননি। তবুও এখানে সুমন খান, এনামুল হকের মতো বোলারদের উইকেট দিয়েছেন অবলীলায়। ছিল না বিন্দুমাত্র আত্মনিবেদন, ছিল না বিপর্যয় সামাল দেওয়ার প্রচেষ্টা। দলীয় রান ২১ থেকে ২২-এ যেতেই নেই ৪ বলের মধ্যে খুলনার ৩ উইকেট, একে একে আউট হয়েছেন বিজয়, ইমরুল ও মিঠুন। প্রত্যেকেই আউট হয়েছেন ক্যাচ দিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনা অলআউট হয়েছে মাত্র ৯১ রানে। ৫ উইকেট সুমন খানের। ঢাকা বিভাগের সামনে এখন জয়ের জন্য মাত্র ১০৪ রানের হাতছানি। প্রথম ইনিংসে ঢাকা ১৬০ রানে অলআউট হয়।

টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। লাল বলে সবশেষ ইনিংসে ইমরুল করতে পেরেছেন মাত্র ১ রান। রনি তালুকদারের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন এনামুল হকের বলে। প্রথম ইনিংসে ১৬ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রান দিয়েই শেষ হলো সাদা পোশাকে লাল বলে ইমরুল অধ্যায়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩৮ ম্যাচ, ৭৯৪৭ রান ২০ সেঞ্চুরি আর ২৭ হাফসেঞ্চুরিÑ এই পরিসংখ্যান আর অনেক আক্ষেপ নিয়েই তাকে মাঠ ছাড়তে হবে শেষবারের মতো।

ডাবল সেঞ্চুরির পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছেন সিলেটের অধিনায়ক অমিত হাসান। ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে সিলেটের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩৭৬ রানে। ১০১ রান করেছেন অমিত, ৫৬ রান আসাদুল্লাহ গালিবের। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৪৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছে ঢাকা মেট্রো। সিলেট এগিয়ে আছে ১৯৭ রানে, দেখছে ইনিংস ব্যবধানে জয়।

রাজশাহী বিভাগকে ১১২ রানে অলআউট করার পর চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২৫২ রানে। এরপর রাজশাহী দ্বিতীয় ইনিংসে দ্বিতীয় দিনশেষে অলআউটের দোরগোড়ায়, তাদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০২ রান। ৫ উইকেট নিয়েছেন আহমেদ শরীফ। রংপুর-বরিশাল ম্যাচে বরিশাল প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ৩৩৬ রানে, জবাবে রংপুর দ্বিতীয় দিনশেষে ৫ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২১৮ রান।