অস্ট্রেলিয়ার নতুন ওপেনার কে এই ম্যাকসুইনি? কীভাবে তার উত্থান?

লাল বলে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার মহারণ শুরু হওয়ার আগে ব্যাপক আলোচনায় চলে এসেছেন নাথান ম্যাকসুইনি। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের টেস্ট অভিষেক হতে যাচ্ছে ভারতের বিপক্ষে। উসমান খাজার সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে তাকে সামলাতে হবে মোহাম্মদ শামি, জসপ্রিত বুমরাহদের মতো গতি তারকাদের। কিন্তু কে এই ম্যাকসুইনি, যাকে ডেভিড ওয়ার্নারের জায়গায় খুঁজে পেল অস্ট্রেলিয়া?

ম্যাকসুইনির উত্থানের মূলে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রতি মৌসুমে নিজেকে উন্নত করেছেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার একটা সিদ্ধান্তই তার জীবন বদলে দিয়েছে। ম্যাকসুইনি যোগ দেওয়ার আগে পর্যন্ত সাউথ অস্ট্রেলিয়া বিধ্বস্ত একটি দল ছিল। টানা দুই মৌসুম শেফিল্ড শিল্ডে একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি। ম্যাকসুইনি দলে যোগ দিয়ে অপরাজিত ৯৯ রান করে দলকে সেই কাঙ্খিত জয় এনে দেন।

শুধু তাই নয়, পরের মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ম্যাকসুইনিরই সেঞ্চুরিতে আবার জিতেছে সাউথ অস্ট্রেলিয়া। তার পরের ম্যাচে আবার সেঞ্চুরি এবং আবার দলের জয়। ততদিনে নিজেকে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন ম্যাকসুইনি। ম্যাকসুইনির উত্থানের নেপথ্যে অন্যতম কারণ হল তার ঠান্ডা মাথা। ক্রিজে নেমে শান্ত থাকতে পারেন। সবসময় নিজের উন্নতির চেষ্টা করেন। কিছু শেখার চেষ্টা করেন।

ঘরোয়া পর্যায়েই দলের বিপদে হাল ধরাকে অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন ম্যাকসুইনি। এর পুরস্কার স্বরূপ ২০২২-২৩ মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়ার ‘এ’ দলে জায়গা করে নেন। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে পর পর দু’টি হাফসেঞ্চুরি করে নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দেন। তখনও তিনি জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে তিনি আলোচনাতেই ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ায় তো আর ক্রিকেটারের অভাব নেই।

২০২৩-২৪ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব পেয়েই নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেন ম্যাকসুইনি। কয়েক সপ্তাহ পরে তার সেঞ্চুরিতে গ্যাবায় এক দশক পর জয় পায় সাউথ অস্ট্রেলিয়া। ততদিনে ব্যাটিং অর্ডারে তিনে উঠে এসেছেন ম্যাকসুইনি। তিনে নেমে মাত্র পঞ্চম ইনিংসে হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। এতে গত বছরের অক্টোবরেই তিনি টেস্ট দলে আসার দাবি জোরালো করেন।

এদিকে অবসরে যাওয়া ওয়ার্নারের বদলি খুঁজতে মাথার চুল ছিঁড়ছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নির্বাচকেরা। পুরনো দুই মুখ মার্কাস হ্যারিস এবং ক্যামেরন ব্যানক্রফ্টকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছিল। একইসঙ্গে ম্যাকসুইনি এবং আরেক তরুণ তরুণ স্যাম কনস্টাস তাদের নজরে ছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাকসুইনির ৮৮ রানের ইনিংস টেস্ট দলে তার জায়গা পাকা করে দেয়। দলকে ম্যাচ জেতানোর পরদিনই ডাক পান টেস্ট দলে।

বয়স কম হলেও চিন্তাভাবনায় বেশ পরিণত ম্যাকসুইনি। প্রথম টেস্টের আগে তার বক্তব্যেই প্রমাণ পাওয়া যায়, ‘আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হযেছে, সেটা ভালোভাবে পালন করাটাই কাজ। আশা করি শুক্রবার নিজের ক্ষমতার পরিচয় দিতে পারব। সমালোচনা তো হবেই। যে কোনো নতুন ক্রিকেটার দলে এলেই সমালোচিত হতে হয়। দেশের হয়ে খেলতে নামলে এ সব সহ্য করাও শিখতে হয়।’