চালু হতে না হতেই বন্ধ ‘এস্কেলেটর’, বিরক্ত পথচারীরা 

রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে ফার্মগেট একটি। যেখানে রোজ গাড়ির চাপ লেগেই থাকে। তাই পথচারীরা রাস্তা পারাপারের জন্য ফার্মগেট মোড়ে থাকা সবচেয়ে সুপ্রশস্ত ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করেন। পায়ে হাঁটা সিঁড়ি ব্যবহার সব বয়সী মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহারের জন্য দুইপাশে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) চালু করা হয়।

এতে ফুটওভারব্রিজটি ব্যবহারীদের কিছুটা স্বস্তি মিলে। কিন্তু চালুর এক সপ্তাহ না যেতেই চলন্ত সিঁড়িটির প্রবেশমুখেই বাঁশ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। ফলে পথচারীরা সেটি আর ব্যবহার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে কষ্ট হলেও সববয়সী মানুষ পায়ে হেঁটেই বিজ্রটি দিয়ে পারাপার করছেন। অনেকে আবার ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন।

এক সপ্তাহ চলেই বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চলন্ত সিঁড়িপ প্রবেশপথ। ছবি: দেশ রূপান্তর

ফার্মগেটের ফুটওভার ব্রিজটি নিয়মিত ব্যবহার করেন মো. ইসমাইল হোসেন (৪০)। যিনি দীর্ঘদিন ধরেই হাঁটু ব্যথায় ভুগছেন। তাই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা তার জন্য খুবই কষ্টকর। তবুও কষ্ট হলেও নিয়মিত হেঁটেই ব্রিজটি পার হন। এক সপ্তাহ আগে চলন্ত সিঁড়ি চালু হওয়ার খবরে তিনি স্বস্তিতে ছিলেন। কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই ব্রিজটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু হঠাৎ বন্ধ দেখে তিনি হতবাক হয়েছেন। 

চলন্ত সিঁড়ি বন্ধের বিষয়ে কিছু জানেন কিনা জানতে চাইলে মো. ইসমাইল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই বাঁশ দিয়ে চলন্ত সিঁড়ির গেটটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সিঁড়িটি যদি নষ্টই হয়ে যায় তাহলে বিষয়টি বিলবোর্ড দিয়ে জানানো হোক। আর যদি নষ্টই হয় তাহলে এক সপ্তাহ চলেই কেন নষ্ট হবে? তাহলে এটি ভালোভাবে তৈরি করা হয়নি। আর যদি নষ্ট না হয় তাহলে দ্রুত চলন্ত সিঁড়িটি চালুর দাবি জানান তিনি।

সরেজমিন থেকে দেখা গেছে, ফার্মগেট মোড়টি ব্যস্ততম হওয়ায় অধিকাংশ পথচারী উঁচু ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করছেন। একই সিঁড়ি দিয়ে পথচারীরা উঠছেন আবার নামছেন। অথচ এক সপ্তাহ আগে ফুটওভার ব্রিজটির দুই পাশে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) চালু করা হয়। এস্কেলেটরটি চালুর পর একপাশ দিয়ে পথচারীরা উঠতেন ব্রিজের অন্যপাশে থাকা সিঁড়ি দিয়ে নামতেন। এতে অল্প সময়ে কষ্ট ছাড়াই ফুটওভার ব্রিজটি সকলেই ব্যবহার করতেন। কিন্তু এক সপ্তাহ চালুর পরেই বন্ধ হওয়ার বিষয়টি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এস্কেলেটরটি বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই এখন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। কি কারণে চলন্ত সিঁড়িটি বন্ধ করা হয়েছে তা আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা কিছুই বলতে পারছেন না। তবে এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারীরা দ্রুত চলন্ত সিঁড়ি চালুর দাবি জানিয়েছেন।

কবে থেকে এই এস্কেলেটরটি বন্ধ জানতে চাইলে এক দোকানদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আগে বাঁশ দিয়ে চলন্ত সিঁড়িটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেন বন্ধ করা হয়েছে তা আমার জানা নেই।

বন্ধ চলন্ত সিঁড়ি। ছবি: দেশ রূপান্তর

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ফুটওভার ব্রিজগুলোতে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) রয়েছে। তবে এগুলোর অধিকাংশই নষ্ট কিংবা বন্ধ থাকে। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্ক সংলগ্ন আবরার আহমেদ ফুট ওভারব্রিজটি ব্যবহারের জন্য চলন্ত সিঁড়ি রয়েছে। সেই সিঁড়িটি খুব আগ্রহ সহকারে মানুষ ব্যবহার করে। কিন্তু সেই সিঁড়িটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কষ্ট হলেও মানুষ উঁচু ফুটওভার ব্রিজটি পায়ে হেঁটেই পার হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার কষ্ট না করার মানসিকতা থেকে ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন।

এছাড়াও রাজধানীর বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চলন্ত সিঁড়িটি অধিকাংশ সময়েই বন্ধ থাকে বলে জানা গেছে। এভাবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের সুবিধার জন্য বসানো অধিকাংশ চলন্ত সিঁড়ি কিছুদিন চলার পরেই বন্ধ থাকতে দেখা যায়। বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন নজরদারিও লক্ষ্য করা যায় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পথচারীদের।

ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের জন্য চলন্ত সিঁড়িটি চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই কেন বন্ধ সেই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মীর খায়রুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বন্ধ কিনা তা আমার জানা নেই। যদি বন্ধ থাকে তাহলে কী কারণে বন্ধ তা খোঁজ নিয়ে জানতে হবে। তবে রাজধানীতে চলন্ত সিঁড়িগুলো নষ্ট হয় মূলত যন্ত্রপাতি (পার্স) নষ্টের কারণে। আর এসব সিঁড়ির যন্ত্রপাতি দেশে পাওয়া যায় না আমদানি করতে হয়। তাই নষ্ট হলে খুব দ্রুত সচল করাও যায় না।’