বাড়ি থেকে খেলাধুলা করতে বের হয় শিশু আরবী আক্তার (৭)। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছিলো না পরিবার। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার করে আরবীর সন্ধান করেন পরিবারের সদস্যরা। তারমধ্যেই মুক্তিপণের দাবিতে বেশ কয়েকটি ফোন আসে পরিবারের কাছে। কিন্তু মুক্তিপণ দাবি করার পরও জীবিত পাওয়া যায়নি শিশু আরবী আক্তারকে।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাতে পুকুর ভেসে উঠে আরবীর মরদেহে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে বগুড়া সদরের গোকুল সরকারপাড়া গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে আরবী আক্তারের সাথে। পুলিশের দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেখেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে মুক্তিপণ দাবি করে একটি প্রতারক চক্র।
বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দিন।
তিনি জানান, শিশু আরবী আক্তার মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় নিখোঁজ হন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েটির ছবি দিয়ে সন্ধান চাওয়া হয়। এরপর বিকেলের দিকে কয়েকটি মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির বাবার কাছে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ফোন নম্বরগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে। এগুলো পর্যবেক্ষণ করে অনুমান করা হয় ফেসবুকে পোস্ট দেখে প্রতারক চক্র টাকা হাতানোর জন্য ফোন করেছিল। এরই মধ্যে সন্ধ্যার পর বাড়ির কাছে পুকুরে শিশুটির লাশ ভেসে উঠে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের লোকজন জানিয়েছে শিশুটি মৃগী রোগী ছিল। ধারণা করা হচ্ছে খেলাধুলার সময় সবার অজান্তে পুকুরে পড়ে যায়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রাতেই শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।