ইউরোপের দুয়ারে পরমাণু যুদ্ধ!

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছ থেকে পাওয়া অনুমতির ফায়দা নিয়ে রুশ ভূখণ্ডে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত মঙ্গলবার যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক প্রদেশের এক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইউক্রেন। হামলার আগে ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার-সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তাই দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সংঘাত এড়িয়ে যুদ্ধ বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আলোচনার টেবিলে বসতে আগ্রহ দেখিয়েছেন পুতিন। এ বিষয়ে অবগত আছেন এমন পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই যুদ্ধ অবসানের আশা করা হচ্ছে। এমনকি দ্রুতই যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনার জন্য ইউক্রেনকে ন্যাটোয় যোগদানের আশাবাদ দিতে হবে। রাশিয়ার দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলো মস্কোর কাছে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন ট্রাম্প। সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন রাজ্য নিয়ে দুপক্ষ দরকষাকষি করতে পারে। তবে চারটি রাজ্যের ৭০-৮০ ভাগই রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এগুলো নিজেদের বলে দাবি করে আসছে মস্কো। সেই সঙ্গে খারকিভ ও মাইকোলাইভ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি যুদ্ধে লিপ্ত বিভিন্ন ফ্রন্টলাইন থেকেও সেনাদের ফিরিয়ে আনতে পারেন পুতিন। এর আগে চলতি মাসে পুতিন বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে স্থায়ী ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বল্প মেয়াদে যুদ্ধবিরতি শুধু পশ্চিমাদের ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের বিস্তৃত সুযোগ করে দেবে। এদিকে যুদ্ধের হাজারতম দিনে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক প্রদেশের এক সামরিক ঘাঁটিতে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইউক্রেন। চলমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন একটি সংশোধিত পরমাণু নীতিমালায় স্বাক্ষর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় এই সংশোধিত নীতি জারি করা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পুতিন এই নীতিমালা হালনাগাদ করতে চেয়েছেন। তবে নিশ্চিতভাবে পরমাণু শক্তি ব্যবহার করা হবে কি না, তা নির্দিষ্ট করা না হলেও, সার্বিকভাবে এ অঞ্চলে পরমাণু যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

এরই মধ্যে রাশিয়া পারমাণবিক বোমা হামলার শকওয়েভ ও তেজস্ক্রিয়তাসহ নানা ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা পেতে ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করেছে। দেশটির জরুরি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, কেইউবি-এম নামের এসব আশ্রয়কেন্দ্র পারমাণবিক বোমা হামলা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিপর্যয় থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য সুরক্ষা দিতে পারে। বিস্ফোরণ ও প্রচলিত অস্ত্রের আঘাত, ভবনের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য ও অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবসহ এ রকম নানা দুর্ঘটনা এবং বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে এই ভ্রাম্যমাণ আশ্রয়কেন্দ্র।

অন্যদিকে রাশিয়ার বিমান হামলার শঙ্কায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বুধবার কিয়েভের দূতাবাসে বড়সড় বিমান হামলা হতে পারে, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর তারা দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা হিসেবে কিয়েভে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও হামলার শঙ্কায় দূতাবাস বন্ধ করেছে ইতালিও।