চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে করদাতাবন্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কর ব্যবস্থাপনা গড়তে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের জন্য অনলাইন সিস্টেম উন্মুক্ত করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল অনলাইনে কর রিটার্ন পদ্ধতি সহজীকরণ করা হয়েছে। কিন্তু অনলাইন রিটার্ন পদ্ধতিতে এখনো জটিলতা কটেনি। উল্টো রিটার্ন দাখিলে রেজিস্ট্রেশনসহ করদাতাদের এখনো নানা ধরনের বেগ পেতে হচ্ছে।
কর অঞ্চলগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে গ্রাহকরা নানা ধরনের অসুবিধায় পড়ছে। এর মধ্যে গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় সমস্যা রিটার্ন দাখিলের ফরম পূরণ করে তা সাবমিট করতে না পারা। তাছাড়া ওয়েব পেজ লোডিং, হুটহাট সংরক্ষণ পদ্ধতি মুছে যাওয়া, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েকবার ফরম পূরণ করা এবং ফরম পূরণে ভুল হলে তা সংশোধন না হওয়া, রিটার্ন রেজিস্ট্রেশন করার পদ্ধতি এরর দেখানো ও অনলাইন ফরমের কিছু কিছু অংশে অস্পষ্ট তথ্য রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচার কর অঞ্চল-৮-এ অনলাইনে কর রিটার্ন জমা নিয়ে কথা হয় বেসরকারি কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, আইনজীবীদের মাধ্যমে বিগত বছরগুলোয় রিটার্ন জমা দিয়েছি। চলতি বছর অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতির খবর শুনে ভালো লেগেছে। কিন্তু অনলাইনে রিটার্ন জমার রেজিস্ট্রেশন করতে এসে পড়তে হয়েছে নানা বিড়ম্বনায়।
তিনি বলেন, ফরমের সব শর্ত পূরণ করার পর সেভ না হয়ে তা পুনরায় সাইটে চলে যায়। তাছাড়া ওয়েব পেজে প্রবেশ করতেই দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও কয়েকবারের চেষ্টায় ফরম পূরণ করতে। সব থেকে বড় অসুবিধা হচ্ছে ফরমের সব কিছু পূর্ণ করার পর রিটার্ন জমা দিতে দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগছে।
জাকারিয়া নামের আরেক করদাতার সঙ্গে দেশ রূপান্তরের কথা হলে তিনিও কিছু নতুন অসুবিধার কথা জানান। তার ভাষ্যমতে ফরম পূরণ হয়ে গেলে সেটা এডিটের সুযোগে নেই। আবার রিটার্ন রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে সিস্টেম এরর দেখা গেছে। আবার কিছু যায়গায় কী লিখতে হবে সেটা স্পষ্ট করা হয়নি। যেমন একজন পেনশন বইয়ের মাধ্যমে পেনশন পায়। এটা কোথায় ইনপুট হবে? আবার সঞ্চয়পত্রের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বসানো হলেও সেটা আসে না।
তিনি আরও বলেন, সোর্স ট্যাক্সের তথ্য দেব, তখন বেতন ফাইলে বেশ কিছু তথ্য দিয়ে হয়। বেতন কর্তন হয় প্রতি মাসে। এক বছরে একজন কর্মচারীর ১২টি টিডিএস চালান হয়। ধরেন ৫০ হাজার টাকা সোর্সে দিয়েছি। এক লাইনে সেটা পূরণ করা যাচ্ছে না। ১২ জায়গায় ওই চালানগুলোর তথ্য দিতে হচ্ছে। আবার রেফারেন্স নম্বর, ব্যাংকের তথ্য দিতে হচ্ছে। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা চেষ্টা করার পর আর ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে অনলাইনে কর মেলার আদলে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে কর অঞ্চলগুলোয় চলছে আয়কর তথ্য সেবা মাস। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ৪১টি কর অঞ্চলের ৮৬৯টি সার্কেলে অফিস চলাকালে নিরবচ্ছিন্নভাবে কর সেবা দেওয়া হচ্ছে করদাতাদের। তবে মাসের শুরু হওয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করায় কর সেবা সপ্তাহে করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কর অঞ্চল ৭, ৮, ৪ ও ১২ ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।