দুই দফা দাবি আদায়ে দেশের ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে বৈষম্যবিরোধী সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদের নেতৃত্বে এই অনশন শুরু হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত এই অনশনে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন চলবে। এ ব্যাপারে ফিজিওথেরাপিস্ট চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান , শিক্ষার্থীদের এই অনশন আজ বুধবার সারা রাত চলবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই অনশনে আরো শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই অনশন টানা চলবে।
এই চিকিৎসক জানান, দুই দফা দাবি আদায়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ফিজিওথেরাপি শিক্ষক ও চিকিৎসকরা।
দাবি দুটি হচ্ছে, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ ও সরকারি ফিজিওথেরাপি কলেজ বাস্তবায়ন। এই কলেজের জন্য আগেই জায়গা বরাদ্দ ও কলেজ ভবনের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আর কলেজ নির্মাণ কাজ এগোয়নি।
ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের অধীনে ৫ বছরের ফিজিওথেরাপি কোর্স চালু করে সরকার। কিন্তু সরকারি কোনো হাসপাতালেই বিএসসি ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য কোনো পদ তৈরি করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর সহস্রাধিক ফিজিওথেরাপিস্ট বের হলেও সরকারি হাসপাতালে সেবা দিতে পারছেন না তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি চালুর উদ্যোগ নেয় তৎকালীন সরকার। এজন্য মহাখালীতে জায়গাও নির্ধারিত হয়৷ তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক ভিত্তি প্রস্তুরও উদ্বোধন করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে অদৃশ্য কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়৷ ওই জায়গায় নার্সদের জন্য ভবন করা হয়।