গুলিবিদ্ধ পা নিয়েই করছেন ভিক্ষা

মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা আয়েশা বেগম (৭৬)। ভিক্ষা করাই তার পেশা। ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পান, তাতে দিন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা তার। প্রতিদিনের সামান্য আয়ে কোনোমতে দিন যায়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৩ মাস অতিবাহিত হলেও পায়ে বুলেট নিয়ে তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন এই নারী ভিক্ষুক। দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন চিকিৎসার আশায়।

আয়েশা বেগমের স্বামী ও সন্তান বলতে কেউ নেই। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্বামী লতিফ সরদারের মৃত্যুর পর প্রায় এক যুগ আগে মুন্সীগঞ্জ শহরে চলে আসেন। বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। প্রতিদিনের মতো গত ৪ আগস্ট সকালে জেলার মানিকপুর এলাকার নিজ ভাড়া বাসা থেকে বের হন আয়েশা বেগম। ভিক্ষা করার উদ্দেশ্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়কে আসেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে মাঝখানে পড়ে যান তিনি। এ সময় তিনি আচমকা বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তাৎক্ষণিক তিনি ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেনএমনটি তখন বুঝতেই পারেননি আয়েশা বেগম।

সম্প্রতি পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। দিনের বেলায় ভিক্ষা শেষে রাতে যখন বাসায় ফেরেন, পায়ের ব্যথা হয়ে উঠে অসহনীয়। ব্যথায় রাতভর কাতরাতে থাকেন। এ অবস্থায় কিছুদিন আগে শহরের থানারপুল এলাকার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করলে তার বাম পায়ে গুলির অস্তিত্ব দেখা যায়। স্বামী-সন্তান ছাড়া বয়সের ভারে ন্যুব্জ আয়েশা বেগমকে পায়ে বুলেট নিয়েই প্রতিদিন ভিক্ষা করতে হচ্ছে। যেখানে তিন বেলা খাবারই জোটে না, সেখানে চিকিৎসা করাবেন কীভাবে, এ নিয়ে পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার তিনি ছুটে যান মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবে। সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন অসহায়ত্বের কথা।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি মানুষের কাছ থেকে চেয়ে খাই। একা জীবনে বেঁচে থাকার কিছু নাই। আমার এহেন চিকিৎসা করতেন যদি আপনারা, তাহলে বাঁচতে পারতাম।’

পরে আয়েশা বেগমকে নিয়ে সাংবাদিকরা ছুটে যান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। এ সময় সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত সবার চিকিৎসা করা হবে। এ বৃদ্ধার নামও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তিনিও চিকিৎসা পাবেন।’