অন্যের জন্য কুয়া খুঁড়লে সেই কুয়ায় নিজেকেই যে পড়তে হয়, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। ভারতকে পেস বোলিং তোপে কাবু করতে পার্থের বাউন্সি উইকেটে প্যাট কামিন্স ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সর্বশক্তিতে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে মাত্র ৫১ রানে ভারতের ৪ উইকেটও তুলে নিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারত আরও ৯৯ রান যোগ করে পৌঁছায় ১৫০ রানে। এরপর প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৯ রানেই ৭ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২৭ ওভারে ৬৭/৭, পিছিয়ে আছে ৮৩ রানে।
দুই দলের অধিনায়ক দুই পেসার। তাদের নেতৃত্বে টেস্ট র্যাংকিং-এর শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি পার্থে। যদিও মাঠটা বিখ্যাত সেই ওয়াকা নয়, টি-টোয়েন্টির যুগে এসে নিয়মিত বিগ ব্যাশ লিগের ম্যাচ আয়োজনের কারণে অপ্টাস স্টেডিয়ামের উইকেটকে পেসারদের স্বপ্নের ২২ গজে পরিণত করাটাও সম্ভবও নয়। তবুও এই উইকেটেই ১৭ জন ব্যাটসম্যান নিজেদের ‘জীবন উৎসর্গ’ করেছেন শুক্রবার।
রোহিত শর্মা অস্ট্রেলিয়াতে পা রাখবেন ২৫ নভেম্বর, তাই সিরিজের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাসপ্রিত বুমরার নেতৃত্বেই মাঠে নামে ভারত। তার টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক! একাদশ বাছাইতেও অনেকের চোখ কপালে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন বা রবীন্দ্র জাদেজা, কেউই নেই একাদশে; অভিষেক হয়েছে অলরাউন্ডার নীতিশ কুমার রেড্ডি আর পেসার হরষিত রানার। শুবমান গিলের চোটে প্রায় ৮ মাস পর টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন দেবদূত পাডিকাল, রোহিত না থাকায় ইনিংসের সূচনায় গেছেন লোকেশ রাহুল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ব্যাগি গ্রিন মাথায় তুললেন নাথান ম্যাকসুইনি। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সিøপে দাঁড়ানো ম্যাকসুইনির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট জয়সওয়াল। ২৩ বল খেলে কোনো রান না করে বিদায় পাডিকালেরও। দুজনেই আউট হয়েছেন শূন্য রানে। জশ হ্যাজেলউডের বলে বাউন্সে বিভ্রান্ত বিরাট কোহলি সিøপে ক্যাচ দিয়েছেন ৫ রান করে। রাহুলও ৭৪ বলে ২৬ করে বিদায় নিয়েছেন মিচেল স্টার্কের বলে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে। লাঞ্চের আগে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৫১ রান, নেই ৪ উইকেট। এই অবস্থা থেকে রিশাভ পান্ত ও নীতিশ রানার আগ্রাসী ব্যাটিং ভারতকে দ্রুত কিছু রান এনে দেয়। ধ্রুব জুড়েল এবং ওয়াশিংটন সুন্দর অল্পতেই বিদায় নিলেও পান্তের ৩৭ আর নীতিশের ৪১ রান ভারতকে ১০০ পার করায়। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারে ঠিক ১৫০ রানে অলআউট হয় ভারত।
অভিষিক্ত ম্যাকসুইনির সঙ্গে উসমান খাজার ‘সংসার’ টিকল মাত্র ১৫ বল! টেস্ট অভিষেকে ১০ রান করে আউট হয়েছেন এই ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। দশ বছর পর টেস্টে ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরেছেন স্টিভেন স্মিথ, তাকে এই লজ্জায় ফেলেছেন বুমরা। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বোলারদের বেধড়ক পিটুনি দেওয়া ট্রাভিস হেডও বিদায় নিয়েছেন ১১ রানে। একটা চার মেরে মিচেল মার্শ আউট ৬ রানে। বাবা হওয়ার পর টেস্ট খেলতে আসা দুজনের ভাগ্যটা প্রায় একই রকম, দেখা যাক দ্বিতীয় ইনিংসে সন্তানভাগ্যে কার কপাল ফেরে! ১৯ রান করে অ্যালেক্স ক্যারি টিকে আছেন, তার সঙ্গে মিচেল স্টার্ক ৬ রানে অপরাজিত।