বুমরাকে ‘বিশ্বসেরা’ ঘোষণা মালিঙ্গার; মোস্তাফিজ কোথায়?

দুজনের বয়সের পার্থক্য মাত্র এক বছর, জসপ্রিত বুমরার বয়স ৩০, আর মোস্তাফিজুর রহমানের ‘অফিসিয়াল’ বয়স ২৯ বছর। ভারতের ইয়র্কার কিংয়ের অভিষেকও হয়েছে মোস্তাফিজের পরে। সেই বুমরাহ এখন ভারতের ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক। বল হাতে একের পর এক বিস্ময় উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের অবস্থা কী?

২০১৫ সালে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে মোস্তাফিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। ওই বছরেই তার তিন ফরম্যাটেই অভিষেক হয়। বিশ্ব ক্রিকেটেই তাকে নিয়ে শুরু হয় মাতামাতি। কিন্তু, দ্রুতই ফুরিয়ে আসতে থাকেন মোস্তাফিজ। তার অস্ত্রগুলো ব্যাটারদের জন্য আর হুমকির হয়ে দাঁড়ায় না। নতুন অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করতেও দেখা যায় না মোস্তাফিজকে। পরিস্থিতি এমন যে, তাকে দলে সুযোগ পাওয়ার জন্যও হাপিত্যেশ করতে হয়।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে সাদা বলের দুই ফরম্যাটে অভিষেক হয় বুমরার। কিন্তু লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১৮ সাল পর্যন্ত! নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিলে তিলে। তিন ফরম্যাটেই হয়ে উঠেছেন ভারতের পেস আক্রমণের নেতা। পেসার হওয়ায় চোটাঘাত এসেছে বহুবার। লম্বা সময়ের জন্য বাইরে ছিটকে যেতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই ইয়র্কার মাস্টার।

চলমান পার্থ টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শর্মার অনুপস্থিতিতে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বুমরা। শুধু অধিনায়কত্ব নয়, বল হাতেও তিনি দলের নেতা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ১৮ ওভার ৬ মেডেন ৩০ রান ৫ উইকেট! মাত্র দেড়শ রানের পুঁজি নিয়েও এমন দুর্ধর্ষ বোলিং দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি লাসিথ মালিঙ্গা।

শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি এই ইয়র্কার গ্রেট সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘জাসপ্রিত “বিশ্বসেরা” বুমরাহ’। মালিঙ্গার সঙ্গে দ্বিমতের সুযোগ নেই। তবে আফসোসের অনেক কিছুই আছে। অন্তত মোস্তাফিজের জন্য। তাকে নিয়ে যত বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্রিকেবোদ্ধারা, তিনি সেটার ধারেকাছেও যেতে পারেননি!