বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রবাসে থাকা ৮ ব্যক্তিকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, যারা ঘটনার দিন ফেনীতে ছিলেন না তাদের দলীয়, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জের ধরে মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
গত ১৮ নভেম্বর ফেনী মডেল থানায় সেনবাগ উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সিএনজি চালক আবদু রব একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৪২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ৭০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার ১১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের মান্দারি গ্রামের মো. হানিফের ছেলে সৌদি প্রবাসী মুহাম্মদ রিয়াদকে।
তার পরিবারের দাবি, গত ৫ বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন তিনি। একই মামলায় ১১৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে একই গ্রামের মো. ইদ্রিস মিয়ার ছেলে বিশ্বাস মিয়াকে। গত তিন বছর ধরে তিনিও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে দাবি পরিবারের।
একই ইউনিয়নের আড়কাইম গ্রামের আবু আহম্মদের ছেলে নাছির উদ্দিনকেও একই মামলার ১০১ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তার পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনিও জীবিকার সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। একই মামলায় দাগনভূঞা উপজেলার দুইজন প্রবাসীকে জড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্ট ফাজিলপুরের কলেজ ছাত্র ছাইদুল ইসলাম (২০) হত্যার ঘটনায় ১৪ আগস্ট তার পিতা রফিকুর ইসলাম বাদী হয়ে ৯৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। উক্ত মামলায় বিদেশ থেকেও আসামি হলেন দাগনভূঞার শাখাওয়াত হোসেন সোহাগ। তিনি গত ৩১ জুলাই দুবাই গিয়ে এখনো দেশে ফিরে আসেননি, অথচ হত্যা ও নাশকতা মামলার আসামি হলেন। একইভাবে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন চিকিৎসার জন্য কানাডা গেলেও রেহাই পাননি হত্যা ও নাশকতা মামলা থেকে।
সৌদি প্রবাসী বিশ্বাস মিয়া জানান, তিনি টানা ৫ বছর সৌদিতে অবস্থান করছেন। অথচ চলতি বছরের ৪ আগস্ট মহিপালের ছাত্র জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার কাছে কি গায়েবি জ্বিন আছে নাকি আমি জ্বিনের মাধ্যমে ৪ তারিখ দেশে এসে হামলা করে আবার সৌদি আরবে চলে এসেছি।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আবদু রব বলেন, মামলার আসামিদের ৭-৮ জনকে চিনতে পারব। বাকিদের আমি চিনি না। তবে কোনো নিরপরাধ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেটা আমি ওসিকে বলেছি। তিনজন বিএনপি জামায়াতের নেতা আমাকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে কয়েকটি স্টাম্পে সাক্ষর নিয়েছে। পরে ওই পেপারগুলো ফেনী মডেল থানায় তারা সহ জমা দিয়েছি। এ প্রতিবেদককে মামলায় কতজন আসামি বা প্রধান আসামি তা বলতে পারেনি বাদী আবদুর রব।
বিদেশে থেকেও কিভাবে আসামি হয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফেনী মডেল থানার ওসি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, বিদেশে থেকে কেউ আসামি হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। বাদীর এজাহার পেয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আশা করি তদন্তে বিষয়টি জানা যাবে। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তাদের সম্পৃক্ততা না পায় বা তারা যে প্রবাসে আছে সেটা যদি প্রমাণিত হয় তবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় মামলায় নিরপরাধ আসামিদের যাতে হয়রানি না করা হয় সে জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।