এবার থাইল্যান্ড নেওয়া হলো আন্দোলনে আহত বাবুকে

এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত মোহাম্মদ বাবুকে (৩৬) থাইল্যান্ড পাঠিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে তিনি থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এ সময় সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর তাকে বিদায় জানান। সে দেশের ভেজথানি হাসপাতালে বাবুর চিকিৎসা হবে।

বাবু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আন্দোলনে রাজধানীর শনির আখড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর গত চার মাসেও শারীরিক উন্নতি না হওয়ায় সরকার তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে গেল। বাবুর সাথে তার বোন সুবর্ণাও গেছেন।

বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আহতদের চিকিৎসায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দেশে যাদের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের দেশের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এমন আরও কয়েকজন এ তালিকায় রয়েছেন।

এ সময় আহত বাবুর মা সাংবাদিকদের বলেন, ২০ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাবুর চিকিৎসা পরিবারের খরচেই হয়েছে। সে সময়ে তার চিকিৎসায় সংসারের সব অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। এরপর আর আমাদের কাছে কিছু ছিল না। ঋণ করেও খরচ দিতে হয়েছে। ১৭ আগস্ট থেকে খরচ সরকার বহন করছে। বাবুর মা ছেলের সুস্থতার জন্য দেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ বাবু (৩৬) মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমানের ছেলে। থাকতেন রাজধানীর শনির আখড়া। কাজ করতেন নয়াপল্টনের ছাপাখানায়। আন্দোলনের সময় বন্ধ হয়ে যায় ছাপাখানা। শনির আখড়া এলাকায় প্রতিদিন আন্দোলনে অংশ নেন। ২০ জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হন।

চিকিৎসকরা জানান, গুলি বাবুর পেটের নিচের অংশ দিয়ে ঢুকে কোমরের পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। প্রথমে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার পেটে দুবার অপারেশন করেন। তার খাদ্যনালীর অনেকাংশ কেটে ফেলতে হয়। বাকি অংশ পেটে ফুটো করে আলাদা করে মলত্যাগের রাস্তা বানানো হয়। কিন্তু অবস্থার কোনও উন্নতি হয় না। পরে সেপ্টেম্বর মাসে বাবুকে বিএমএমইউ হাসপাতালে আনা হয়। কিছুদিন পর অবস্থা আরও খারাপ হয় বাবুর। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় দেশের বাইরে পাঠানোর। ১৫ দিন আগে থাইল্যান্ডের চিকিৎসক এসে বাবুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তারা তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।

মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে জানানো হলে তিনি দ্রুত বাবুকে থাইল্যান্ডে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।