অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে, পার্থের উইকেটে ভয়ঙ্কর সব পেসারদের সামনে ব্যাট হাতে ছড়ি ঘোরালেন যশস্বী জয়সোয়াল। প্রথম ইনিংসে ভরাডুবির পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেললেন ২৯৭ বলে ১৬১ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংস। মিচেল স্টার্ককে একবার স্লেজিংও করলেন- ‘গতি কম কেন? আরও গতি দাও!’ অবশেষে মিচেল মার্শ যখন তাকে থামালেন, ততক্ষণে ভারত চলে গেছে শক্তিশালী অবস্থানে।
জয়সোয়ালের এটা ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৫ টেস্টের ২৭* ইনিংসেই তিনি এগুলো অর্জন করেছেন। ফিফটি করেছেন ৮টি, ব্যাটিং গড় রীতিমতো ঈর্ষণীয় ৫৮.০৭! চার বছর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই জয়সোয়ালদের হারিয়েই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তানজিদ তামিম, শরীফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল হাসান জয়, তাওহীদ হৃদয়রা। অথচ, তাদের মাঝে দেখুন কী আকাশ-পাতাল পার্থক্য!
বাংলাদেশের কাছে যুব বিশ্বকাপ হেরেও জয়সোয়াল-তিলক ভার্মারা এখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দেখাচ্ছেন দাপট। অন্যদিকে বাংলাদেশের সেই চ্যাম্পিয়ন দলের মাঝে একমাত্র পেসার শরীফুল বাদে কেউই জাতীয় দলে সেভাবে নিজেকে প্রমাণই করতে পারেননি। এখনো আছেন আসা-যাওয়ার মাঝে। কে কার চেয়ে কম খারাপ খেলেন- এখনো সেই বিবেচনায় সুযোগ পেতে হয় দলে!
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা কত বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। তাওহীদ হৃদয়রাও এই প্রশ্নের বাইরে নন। পার্থক্যটা হলো, জয়সোয়ালরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হয়ে জাতীয় দলে আসেন। আর হৃদয়দের জাতীয় দলে এনে তারপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করতে হয়। পেশাদারিত্বের ঘাটতি তো থাকেই। এজন্য জয়সোয়ালরা যখন ব্যাট হাতে রাজত্ব করেন, তাওহীদ হৃদয়রা তখনো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে নেন ক্যারিয়ার।