মিচেল স্টার্ক, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার, আইপিএলের ২০২৪ সালের নিলামে ১১.৭৫ কোটি রুপিতে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। আগের আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে রেকর্ড ২৪.৭৫ কোটি রুপিতে কিনলেও এবারের নিলামে তার দাম প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। তার পারফরম্যান্স ও নিলামে অন্য দলগুলোর অনাগ্রহের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।
আইপিএল ২০২৩-এ স্টার্কের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার তুলনায় ছিল কিছুটা হতাশাজনক। পুরো মৌসুমে তিনি ৯ ম্যাচে অংশ নেন এবং সংগ্রহ করেন মাত্র ১১ উইকেট। তার ইকোনমি রেট ছিল ৯.১-এর ওপরে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব একটা ভালো নয়। ইনিংসের শেষ দিকে ডেথ ওভারে তার বোলিং ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। তবে দু-একটি ম্যাচে তিনি ঝলক দেখিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা কলকাতা নাইট রাইডার্সের খরচা সামলানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
স্টার্কের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অবশ্য বেশ ভালো কেটেছে। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ১৯ উইকেট নেন, যার মধ্যে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইনজুরির কারণে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার।
দাম কমার কারণ
স্টার্কের দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ তার ইনজুরি ইতিহাস ও ধারাবাহিকতার অভাব। আইপিএলের দীর্ঘ সময় ধরে খেলা তার জন্য শারীরিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়া, তার বোলিং কার্যকারিতা উপমহাদেশের ফ্ল্যাট উইকেটগুলোতে কিছুটা কমে যায়। নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস ছাড়া কোনো দল তার জন্য আগ্রহ দেখায়নি, কারণ অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো হয়তো তাকে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেছে।
কেন দিল্লি ক্যাপিটালস তাকে নিল?
দিল্লি ক্যাপিটালস মূলত স্টার্কের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেছে। স্টার্ক নতুন বল ও মৃত্যুকালীন ওভারে কার্যকর হতে পারেন। তাদের বোলিং আক্রমণে একজন অভিজ্ঞ পেসারের প্রয়োজন ছিল, এবং কম দামে তাকে পাওয়াটা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য সেরা সুযোগ হিসেবে কাজ করেছে।
স্টার্কের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ফিটনেস ধরে রাখা এবং আইপিএলের দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে তিনি যদি নিজের পুরনো ছন্দে ফিরতে পারেন, তাহলে তার জন্য এটি হবে পুনরুত্থানের সুযোগ।