প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবার উদ্বোধন

ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ই-পাসপোর্ট সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে ফ্রান্সের বাংলাদেশ মিশন। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশ দূতাবাসে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নুরুছ ছালাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা। 

রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, ‘প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্রান্সে আরও আগে চালু হওয়ার কথা ছিল ই-পাসপোর্ট সেবা। সরকারের সীমাবদ্ধতার জায়গা থেকে একটু দেরি হলেও ফ্রান্সে বাংলাদেশ মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হলো।’

ই-পাসপোর্ট আবেদনকারী প্রবাসী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এটি ফ্রান্সের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকদিনের দাবি ছিল। অবশেষে তা আদায় হয়েছে। মাত্র ২০-২৫ মিনিটে আবেদনের কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করা যাচ্ছে প্রবাসীদের ভোগান্তি এবার অনেকাংশে কমবে।’

ফ্রান্স বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম তাহের বলেন, ‘ইউরোপের অন্য দেশে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু থাকলেও দীর্ঘদিন পর প্যারিসে এই সেবা চালু হলো। যা প্রবাসীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ।’ 

বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নুরুছ ছালাম বলেন, ‘সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জুন মাসে এমআরপি পাসপোর্ট নতুন করে আর রিনিউ করা যাবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে ই-পাসপোর্টের আওতায় চলে আসতে হবে। নাগরিকরা তার সুবিধামতো পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এ পাসপোর্টের চিপে নাগরিক তথ্য ছাড়াও থাকবে ফিঙ্গার প্রিন্ট, ফেস ইমেজ, চোখের আইরিসের তথ্য ও স্বাক্ষর। পলিকার্বোনেট ডাটা পেজে থাকছে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও ব্যক্তিগত তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘৪২টি নিরাপত্তা ফিচার সংবলিত ই-পাসপোর্ট বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি অনন্য সংযোজন। প্রথম পর্যায়ে শুধু সাধারণ আবেদন গ্রহণ করা হবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। ফরমে কোনো ছবি সংযোজন বা সত্যায়নেরও প্রয়োজন হবে না। জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ায় এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী হবে। ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।’

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হয়। বিশ্বে ১১৮টি দেশে এ সেবা চালু রয়েছে। বাংলাদেশ ১১৯তম দেশ হিসেবে এই পাসপোর্ট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের বাংলাদেশ মিশনসহ পৃথিবীর ৪৬টি মিশন ও কনসুলেটে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়েছে।