শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে খ্রিস্টান প্রতিনিধিদল

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

ফ্রান্সে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ঐতিহাসিক প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ। সম্প্রতি ফ্রান্সের ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলন এর বিভিন্ন জাতীয় পরিষেবার প্রায় একশ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মসজিদটি সফর করেছে।

প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ফরাসি বিশপ সম্মেলনের মহাসচিব ও মুখপাত্র ক্রিস্টোফ ল্য সু এবং মুসলিমদের সঙ্গে সম্পর্কবিষয়ক জাতীয় প্রতিনিধি জ্যঁ-ফ্রাঁসোয়া বুর। এ সময় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, ধর্মীয় সম্পর্ক, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সফরের শুরুতে মসজিদের হলরুমে অতিথিদের স্বাগত জানান প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদের রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ। পরে প্রতিনিধিদল মসজিদের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ইসলামী সভ্যতার ঐতিহ্য ও ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
আলোচনায় মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

অতিথিদের উদ্দেশে রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ বলেন, আপনাদের উপস্থিতি আমাদের জন্য আশার প্রতীক। এমন এক সময়ে আমরা একত্রিত হয়েছি, যখন বিশ্ব নানা সংকট, সংঘাত ও বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের সাক্ষাৎ ও সংলাপ আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে আপনারা নিজেদের ঘরের মানুষ হিসেবেই অনুভব করবেন। আজকের এই সাক্ষাৎ আমাদের সবাইকে শান্তি, সংলাপ ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।

বক্তব্যে তিনি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পোপ লিও চতুর্দশের সম্ভাব্য প্যারিস সফরের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা এ সফরকে ফ্রান্স এবং বিশ্বশান্তির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখি। ভবিষ্যতে তাঁকেও প্যারিস গ্র্যান্ড মসজিদে স্বাগত জানানোর সুযোগ হবে বলে আশা করি। সফর শেষে খ্রিস্টান প্রতিনিধিদলের সম্মানে মসজিদ প্রাঙ্গণে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে ধর্মীয় বিভাজন, উগ্রবাদ ও সামাজিক মেরুকরণ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আন্তঃধর্মীয় সফর ও সংলাপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

মুসলিম ও খ্রিস্টান নেতাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা সামাজিক সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সফরের মাধ্যমে ফ্রান্সের দুই বৃহৎ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আবারও প্রমাণ করেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা আলোচনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত