ফটিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, কাউখালি তিন উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়ক দৌলত মুন্সিরহাট টু বার্মাছড়ি বাজার সড়ক। অর্ধশত বছরে এই সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এতে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির খিরাম ইউনিয়ন, খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ির বার্মাছড়ি ইউনিয়ন, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালির ফটিকছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
এক দশক আগে ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলত মুন্সিরহাট থেকে মগকাটা পর্যন্ত ৩ কিমি অংশে ডাবল ব্রিক সলিন দ্বারা উন্নয়ন হলেও এটির অবস্থাও বেহাল। চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সড়ক। ফলে, স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষক, শ্রমিক, সেনাবাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বার্মাছড়ি ও কাউখালি উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের মানুষ মানুষ চট্টগ্রাম নগরীতে যাতায়াত করে এই সড়ক পথে। দীর্ঘ এক দশক আগে সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়কের ৩ কিলোমিটার সড়ক ডাবল ব্রিক সলিন দ্বারা উন্নয়ন করা হলেও ৩ কিলোমিটারের বেশির ভাগ অংশে ব্রিক সলিন উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সড়ক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি অংশে এই সড়কের পাশে রয়েছে লক্ষ্মীছড়ি জোনের খিরাম আর্মি ক্যাম্প, সর্তা বনবিট, খিরাম উচ্চ বিদ্যালয়, ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি ৩টি মাদ্রাসা। এই সড়কের পাশে বসবাস করেন হিন্দু-মুসলিম, চাকমা, মারমা সম্প্রদায়ের প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে এই সড়কটি উন্নয়ন না হওয়ার ফলে এর খুবই করুণ অবস্থা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সড়কের কার্পেটিং এর মাধ্যমে উন্নয়ন ও সড়ক প্রশস্থকরণ করা জরুরি। এতে তিন উপজেলার মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন অংশে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। প্রায় সময়ই সড়কে যানবাহন অচল হয়ে পড়ছে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।
স্থানীয় খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা গ্রামের বাসিন্দা মো.আশরাফ উদ্দিন বলেন, 'রাস্তার সমস্যার কারণে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে যেতে অসুস্থ রোগী আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মহিলাদের সমস্যা বেশি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য পূর্ণ মাসি চাকমা বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি অবহেলায় পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে যাত্রী ও যান চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। এতে জেলা হেডকোয়ার্টার, উপজেলা পরিষদ, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে জনগণের চিকিৎসা ও দাপ্তরিক কাজে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সড়কটির কার্পেটিং মাধ্যমে উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন।'
খিরাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভ বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে সড়কটি। হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি। সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে,ধ্বসে যাচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় জন-দুর্ভোগ বাড়ছে। রাস্তাটি প্রশস্থ ও সংস্করণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য কামনা করছি।'
উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, '১৪ কিমি সড়কের ৬ কিমি অংশ খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এটি একটি ইউনিয়ন সড়ক। এটির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রস্তাবনা দেয়া আছে। প্রকল্প থেকে অনুমোদন হয়ে গেলে সড়কটি ১৮ ফুট ধরে উন্নয়ন করে দেওয়া হবে।'
তিনি আরও বলেন, এছাড়া সড়কটি তিন জেলার সংযোগ সড়ক হওয়ায় আন্তঃজেলা সংযোগ প্রকল্পে প্রস্তাবনা আছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি উন্নয়ন করা হলে তিন জেলার মানুষ উপকৃত হবে।