রপ্তানি স্লট বুকিং বন্ধ রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ, বেড়েছে আলুর দাম

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৬:২৪ পিএম

আলু ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্য দুটির রপ্তানিতে স্লট বুকিং বন্ধ রেখেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর ফলে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে গতকাল পূর্বের স্লট বুকিং এর বিপরীতে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এ দিকে আমদানি বন্ধের ফলে পেঁয়াজের দাম না বাড়লেও আলুর দাম কেজিতে ৭ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে। আমদানি বন্ধের কারণে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা। 

রবিবার দুপুর থেকেই পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তবে এর আগ পর্যন্ত স্লট বুকিং হওয়া পেঁয়াজ ও আলু গতকাল বন্দর দিয়ে রপ্তানি করেছে ভারত। গতকাল দুপুর থেকে শুরু করে আজ সোমবার বিকেল ৩টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্লট বুকিং বন্ধ রয়েছে। আজ বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে ও তবে ১ ট্রাক আলু আমদানি হয়েছে।

শনিবার বন্দরে আমদানিকৃত লাল আলু ৫৬ থেকে ৫৭ টাকা বিক্রি হয়েছিল যা রবিবার রপ্তানি বন্ধের খবরে দাম বেড়ে ৬৫ টাকায় উঠে যায়। এ ছাড়া সাদা আলু শনিবার ৫০ টাকা বিক্রি হলেও রবিবার তা ৬০ টাকায় উঠে যায়। তবে পেঁয়াজ শনিবার প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রি হয়েছিল যা রবিবার একই দামে বিক্রি হয়েছে। 

ভারতের হিলি সি আ্যন্ড এফ এজেন্ট অনিল সরকার বলেন, পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে অনলাইনে ট্রাকের জন্য স্লট বুকিং নিতে হয়। এরপরেই সেই পণ্যের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশে গতকাল দুপুর থেকে পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সেই স্লট বুকিং বন্ধ রয়েছে। গতকাল পূর্বের স্লট বুকিং এর বিপরীতে আলু ও পেঁয়াজগুলো বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। আজ এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ রপ্তানি হয়নি শুধু মাত্র ১ ট্রাক আলু রপ্তানি হয়েছে যেটির আগে থেকে স্লট বুকিং নেওয়া ছিল। তবে যাদের আগে থেকে স্লট বুকিং নেওয়া আছে সেই সমস্ত আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের বালুরঘাটে ড্রিস্টিক ম্যাজিষ্ট্রেট এর সাথে বৈঠক চলছে। বৈঠক শেষ হলে বোঝা যাবে তবে আজ না হলেও কাল হবেই সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় এতে কোন সন্দেহ নেই। 

ভারতীয় রপ্তানিকারক রাম কৃষ্ণ দাস বলেন, আমি ভারত থেকে বাংলাদেশে আলু রপ্তানি করি। অন্যান্য দিনের মত রবিবার আমি আলু রপ্তানি করেছি কিন্তু দুপুরে শুনতে পারলাম যে আলু ও পেঁয়াজের স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তারা মৌখিকভাবে বলেছে আপাতত স্লট বুকিং বন্ধ থাকবে যেগুলো আগে থেকে স্লট বুকিং নেওয়া ছিল সেই গাড়িগুলোই রপ্তানি করা যাবে। গতকাল রবিবার দুপুর থেকে শুরু করে সোমবার এখন অবধি স্লট বুকিং বন্ধ রয়েছে কি হবে ঠিক বলতে পারছি না। স্লট বুকিং বন্ধ থাকার কারণে আমরা রপ্তানিকারকরা অনেক সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছি। ভারতের উত্তর প্রদেশ পাঞ্জাব হরিয়ানা এসব অঞ্চল থেকে আলু আসছে সেসব আলু বোঝাই ট্রাকগুলো রাস্তায় রয়েছে। এখন এই অবস্থায় এসব আটকে গেলে আমরা আলু পচে নষ্ট হয়ে যাবে আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়ে যাবো। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বলছে যে তাদের রাজ্যে উৎপাদিত আলু ও পেয়াজ ভিনদেশে রপ্তানির ফলে বাজারে পণ্য দুটির দাম বেড়ে যাচ্ছে যার কারণেই এই স্লট বুকিং বন্ধ করে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা চলছে এখন কি হবে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না ও বলাও যাচ্ছে না।

হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারক মোস্তফা হোসেন বলেন,বাজারে দেশীয় আলুর সরবরাহ কম থাকায় দাম ঊর্ধ্বমুখি। যার কারণে দেশের বাজারে আলুর সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আলু আমদানি করা হচ্ছিলো। বেশ কিছুদিন ধরেই আমদানি অব্যাহত ছিল কিন্তু রবিবার দুপুর ১২টার পর থেকে হঠাৎ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয়। যে আলু বোঝাই ট্রাকগুলো ভারতের পার্কিংয়ে ও সড়কে রয়েছে সেগুলোর আর স্লট বুকিং হবে না এমন খবর পাচ্ছি। হঠাৎ করে যদি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার এমন সিন্ধান্ত নেয় তাহলে তো আমরা আমদানিকারকরা প্রচন্ড ক্ষতির মুখে পড়ে যাব। 

হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের অনেকের ব্যাপক পরিমাণে আলুর এলসি খোলা আছে অনেকের আলুবাহী ট্রাক ভারতের পার্কিংয়ে পড়ে আছে। কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার গতকাল দুপুর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নতুন করে কোন স্লট বুকিং দিচ্ছে না। আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করছি খবর নিচ্ছি তারা শুধু বলছে খুলবে কিন্তু কখন খুলবে সেটি নিশ্চিত করে বলছেনা তারা। এমন অবস্থায় আলুর মান নষ্ট হয়ে ক্ষতির আশঙ্কা করছি আমরা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন,ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ও আলু অন্য দেশে যেতে দিবে না সেই কারণে স্লট বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা যেসব পেঁয়াজ আমদানি করি সেগুলো তো পশ্চিমবঙ্গের নয় সেগুলো তো অন্য প্রদেশের আমরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করবো না সেক্ষেত্রে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু যেহেতু তারা স্লট বুকিং বন্ধ করে রেখেছে সে কারণে এই বিষয়গুলো নিয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা তাদের রাজ্য সরকারের সাথে আলোচনা করছে। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না বিষয়টি সমাধান হয়ে গেলেই পেঁয়াজ ঢুকবে ভয়ের কোন কারণ নেই।  

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গতকয়েকদিন ধরেই আলু ও পেঁয়াজ আমদানি যেমন অব্যাহত ছিল তেমনি আমদানির পরিমাণ বাড়তির দিকে ছিল। গতকাল রবিবার বন্দর দিয়ে ৭২টি ট্রাকে ২ হাজার ৩৯ টন আলু আমদানি হয়েছিল। এ ছাড়া ১৪টি ট্রাকে ৩শ’ ৯৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আজ বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১ ট্রাক আলু আমদানি হয়েছে তবে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি । ভারতে নাকি কী সমস্যা হয়েছে সেই কারণে ঢুকছে না বলে জানতে পেরেছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত