বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ভায়রা ভাইকে হত্যা করেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাসিন্দা মো. রায়হান আলী (৪০)। ঋণগ্রহীতা দুজনের মধ্যে কোনও একজন মারা গেলে পুরো টাকা মওকুফ হয়ে যায়- এমন কথা শুনে রায়হান তার ভায়রা আনিসুরকে হত্যা করেন।
রবিবার বিকেলে রাজশাহীর বাঘা থানার আমলী আদালতে ভায়রা ভাই আনিসুর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন রায়হান। এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার মনিগ্রামের একটি আমবগানে রায়হান বাকপ্রতিবন্ধী ভায়রা আনিসুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করেন। নিহত আনিসুর রহমান (৪২) তুলশীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নিহত আনিসুর রহমানের স্ত্রী পারভীনা বেগমের ছোট বোনের স্বামী রায়হান। রায়হান রডমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। আর্থিক সম্যসায় বিভিন্ন সময় আনিসুরের কাছ থেকে টাকা ধার করতেন। চার মাস আগে রায়হান ক্ষুদ্রঋণ দানকারী একটি এনজিও থেকে আনিসুর ও তার স্ত্রী পারভীন বেগমের নামে ৯০ হাজার টাকা ঋণ তোলেন। নিজের নামে আগে থেকেই নেয়া ঋণ ও আনিসুরের মাধ্যমে নেয়া ঋণের কিস্তি ৯ হাজার টাকা দিতে গিয়ে চাপে ছিলেন তিনি।
এরমধ্যে গত বুধবার পারভীনা বেগম ৫ হাজার টাকা ধার চান রায়হানের কাছে। এতে তিনি মানসিকভাবে আরো বিপর্যন্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। পরে লোকমুখে শুনতে পান, ঋণগ্রহীতা দুজনের মধ্যে কোনও একজন মারা গেলে পুরো টাকা মওকুফ হয়ে যায়। এরপরই রায়হান তার ভায়রা আনিসুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার আরো জানান, রায়হান বাজার থেকে ৫০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কেনেন। শুক্রবার ফোন করে ভায়রা ভাই আনিসুরকে মনিগ্রাম বাজারে ডাকেন ৫ হাজার টাকা নেয়ার জন্য। কথামতো বাজারে গেলে টাকা ধার দেওয়ার নাম করে রাতে আনিসুরকে বাজারের পাশের একটি আম বাগানে নিয়ে যান রায়হান। পরে কথা বলার এক ফাঁকে রায়হান পিছন দিক থেকে আনিসুরের গলায় ছুরি চালান। এতে আনিসুর ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জিজ্ঞাসাবাদে রায়হানের কথায় গড়মিল পাওয়া গেলে তাকে আটক করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। রবিবার আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন রায়হান। এ ঘটনায় আনিসুরের স্ত্রী পারভীনা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন।