আইপিএল মেগা নিলামের গত আসরে সঞ্চালকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মল্লিকা সাগর। গতবারের সফল সঞ্চালনার কারণে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবারও তাকেই দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে প্রথম দিনেই মল্লিকার দুটি বড় ভুল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তার ভুলে গুজরাট টাইটান্সের ২৫ লাখ রুপি এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ৪০ লাখ রুপি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জস বাটলারের নিলামে ভুল করেন মল্লিকা। গুজরাট টাইটান্স ও লখনৌ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর গুজরাট ১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি দাম দিয়ে এগিয়ে ছিল। এরপর মল্লিকা লখনৌ কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেন, তারা ১৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে যেতে রাজি কি না। লখনৌ সরে দাঁড়ানোর পর গুজরাটের হয়ে বাটলারের দাম ১৫ কোটি ৫০ লাখ রুপিতেই চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু মল্লিকা ভুল করে ঘোষণা দেন, গুজরাট ১৫ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে বাটলারকে কিনেছে। এর ফলে আশিস নেহরার দলকে ২৫ লাখ রুপি বেশি খরচ করতে হয়। এই ঘটনা গুজরাট কর্তৃপক্ষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয় বড় ভুলটি ঘটে ভারতের তরুণ ব্যাটার অভিনব মনোহরের নিলামে। তার জন্য লড়াইয়ে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু, চেন্নাই সুপার কিংস, গুজরাট টাইটান্স এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। হায়দরাবাদ ২ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে অভিনবকে পেতে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই মল্লিকা ভুল করে ঘোষণা দেন, কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৩ কোটি রুপি দাম দিয়েছে। যদিও কেকেআর আসলে কোনো দরপত্র দেয়নি। মল্লিকার এই ঘোষণায় বিভ্রান্ত হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষ আরও ৪০ লাখ রুপি দিয়ে ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে অভিনবকে কিনে নেয়।
নিলামে সঠিকভাবে প্রতিনিধিদের ইশারা বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দ্রুত নিলাম পরিচালনার চাপে মল্লিকা এই ভুলগুলো করেছেন। তার ভুলে গুজরাট ও হায়দরাবাদ দল আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য ক্ষেত্রে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে এই ভুল নিয়ে দলগুলোর মালিক ও বিসিসিআই কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইপিএল নিলামের মতো একটি বড় মঞ্চে সঞ্চালকের এমন ভুল বিতর্ক তৈরি করেছে। গুজরাট ও হায়দরাবাদ তাদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলেও, মল্লিকার এই ভুল আগামী দিনের নিলাম প্রক্রিয়া পরিচালনায় আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
প্রথম দিনে মল্লিকার দক্ষতা নিয়ে প্রশংসা যেমন ছিল, তেমনই তার এই ভুল নিলামের গতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্বিতীয় দিনে এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য বিসিসিআই আরও মনোযোগী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।