২২ নভেম্বরের সকালের দুটো ঘণ্টা খেলে শেষে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো, পার্থ টেস্টের সম্ভাব্য ফল কী হতে যাচ্ছে তাহলে ভবিষ্যৎদ্রষ্টা না হলে যে কেউই বলতেন যে, অস্ট্রেলিয়া হেসে-খেলে জিতবে। প্রথম দিনের প্রথম সেশনে ভারত ২৫ ওভারে রান তুলেছিল ৫১, উইকেট হারিয়েছিল চারটি। যশস্বী জয়সওয়াল আর দেবদূত পাড়িকাল শূন্য, বিরাট কোহলি করেছেন ৫ আর লোকেশ রাহুল ২৬। এই রকম একটা জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারত শেষ পর্যন্ত টেস্টটা জিতে নিল ২৯৫ রানে, যা রানের ব্যবধান হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে এমন এক কীর্তি গড়ার পর জাসপ্রিত বুমরা প্রশংসায় ভাসালেন জয়সওয়াল আর কোহলিকে, দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের দুই সেঞ্চুরিতেই ভারত প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে পেরেছিল বিশাল রানের বোঝা। প্যাট কামিন্স বলেছেন, ভালো প্রস্তুতির পরেও এমন হার হতাশার।
ওয়াকার অপ্টাস স্টেডিয়ামে আম্পায়াররা যখন দিনের খেলা শেষ করছেন, তার এক ঘণ্টা পরেই জেদ্দায় শুরু হয়েছে আইপিএলের দ্বিতীয় দিনের নিলাম। সিরিজের প্রথম টেস্টের শেষ দুটো দিনেই আইপিএলের নিলাম, নিঃসন্দেহে নির্ঘুম রাত কেটেছে দুই দলের অনেক ক্রিকেটারের। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের, কারণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের বেশিরভাগই তো নিলামের আগেই সরাসরি চুক্তিতে দল পেয়ে গেছেন। মনোঃসংযোগের এই ঘাটতিই কি গড়ে দিল ব্যবধান? নিলামওয়ালার হাতুড়ির শব্দের আগে দর কত উঠল, সেই চিন্তাতেই কি মিচেল মার্শ, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, অ্যালেক্স ক্যারিদের মনটা পড়েছিল অন্য কোথাও? উত্তর জানা নেই, তবে আইপিএলের অর্থের অঙ্কটা এতই অবিশ্বাস্য যে, মনের সাগরে উত্তাল ঢেউ ওঠা অসম্ভব নয়।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বোঝা যাচ্ছিল, অবিশ্বাস্য কোনো কিছু না ঘটলে পার্থে জয়ী দলের নাম ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য করতে হবে ৫৩৪ রান আর ১২ রানে নেই ৩ উইকেট। কামিন্স নিজে নাইটওয়াচম্যান নেমে আউট হয়ে এসেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম চার ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত রান ৯! এই অবস্থা থেকে ম্যাচ জিততে হলে অলৌকিক কিছুই করে দেখাতে হতো অস্ট্রেলিয়ার বাকি ব্যাটসম্যানদের। তেমন কিছুই হয়নি। ট্রাভিস হেড কিছুটা লড়াই করে ৮৯ রান করেছেন, মিচেল মার্শ করেছেন ৪৭ রান। তাতে ব্যবধান কিছুটা কমেছে, জয়ের কোনো সম্ভাবনাই দাঁড়ায়নি। তিন উইকেট করে নিয়েছেন বুমরা-সিরাজ; জোড়া শিকার ওয়াশিংটন সুন্দরের। এক উইকেট পেয়েছেন নীতিশ রেড্ডিও, বাকি ছিলেন হারশিত রানা। তিনিই নিশ্চিত করলেন জয়, অ্যালেক্স ক্যারিকে বোল্ড করে।
পাঁচ টেস্টের সিরিজের প্রথমটিতে জিতে ১-০-তে এগিয়ে গেল ভারত। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিতে অন্তত ৪-০ ব্যবধানে সিরিজটা জিততে হবে ভারতকে। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে প্রথম পদক্ষেপটা দিয়ে ফেলল ভারত। অধিনায়ক হয়েই ম্যাচসেরা, জাসপ্রিত কি রোহিত শর্মাকে দায়িত্বটা ছাড়বেন অ্যাডিলেডে?
ম্যাচশেষে সঞ্চালক অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে আলাপ করতে এসে বুমরা বললেন, ‘আমরা প্রথম ইনিংসে অনেক চাপের মুখে পড়েছিলাম, তবে সেখান থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি সেটা অসাধারণ। আমি এখানে ২০১৮ সালে খেলেছিলাম, আমার মনে আছে উইকেট শুরুতে নরম ছিল। এই উইকেটটা অতটা ঝাঁজাল ছিল না। আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল, সবাইকে বলেছিলাম নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর ভরসা রাখতে। জয়সওয়াল মনে হয় তার জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলেছে। বিরাটকে তো আমি ফর্মহীন বলতেই চাই না। দর্শকের কাছ থেকে ভালো সমর্থন পেয়েছি। ভালো লাগছে’। অন্যদিকে কামিন্স বলেছেন, ‘অনেক কিছুই ঠিকঠাক হয়নি, পার্থক্যটাই সেটা বলে দিচ্ছে। তাড়াহুড়ো করতে চাই না, দুটো দিন বিশ্রামের পর অ্যাডিলেডে প্রস্তুতি শুরু করব। এই দলটা অনেক অভিজ্ঞ, আমাদের ভেতর অনেক কথা হবে সামনে কী করা যায় সেই ব্যাপারে।’
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অ্যাডিলেডে, ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে দিন-রাতের টেস্টটি। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী একাদশের বিপক্ষে একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভারত, ৩০ নভেম্বর ম্যাচটি হবে ক্যানবেরায়।