বার্সেলোনা ম্যানসিটি বায়ার্নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাত

চ্যাম্পিয়নস লিগের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচ রয়েছে আজ রাতে।

বার্সেলোনা বনাম ব্রেস্ত : বার্সেলোনা বনাম ব্রেস্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের এই রাউন্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ। লা লিগায় আগের ম্যাচটি ড্র করার পরও বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছে। রবার্ট লেভানডফস্কির অভিজ্ঞতা এবং রাফিনহার গতিময় খেলা তাদের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করেছে। তবে দলটির উঠতি তারকা লামিন ইয়ামাল ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না।

অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব ব্রেস্ত তাদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযানে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তবে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার পিয়েরে লিস-মেলু ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত থাকায় তাদের মিডফিল্ড কিছুটা দুর্বল হতে পারে। তবুও ব্রেস্তের কোচ এরিক রয় তার দলকে ‘ক্ষুধার্ত পাইরেটস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা তাদের মাঠে লড়াই করার মানসিকতা স্পষ্ট করে। এই ম্যাচে বার্সেলোনা শক্তিশালী ফেভারিট হলেও ব্রেস্তের অপ্রত্যাশিত চমকের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আগের চার ম্যাচে বার্সেলোনা একটিতে হারলেও, ব্রেস্ত অপরাজিত রয়েছে এখনো।

ম্যানচেস্টার সিটি বনাম ফিয়েনুর্দ : ম্যানচেস্টার সিটি বর্তমানে একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পেপ গার্দিওলার দলের জন্য এটি একটি কঠিন সময়, কারণ তারা তাদের শেষ পাঁচটি ম্যাচ হেরেছে, যা তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে অসাধারণ রেকর্ড থাকলেও, এই মুহূর্তে তারা চাপের মধ্যে আছে। ডাচ ক্লাব ফিয়েনুর্দের সাম্প্রতিক ফর্ম দুর্দান্ত, তারা শেষ পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচ জিতেছে এবং তাদের এই আত্মবিশ্বাস ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সিটি যদি তাদের রক্ষণ সামলাতে পারে এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে তারা এই ম্যাচে জয় পেতে পারে। দুদলই তাদের প্রথম চার ম্যাচে দুটি জয় পেয়েছে।

বায়ার্ন মিউনিখ বনাম পিএসজি : দুদলের জন্যই ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচ এটি। বায়ার্ন ঠিক আগের ম্যাচে বার্সেলোনার কাছে হেরেছে। আরেক স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরেছে পিএসজি। বায়ার্নের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। পিএসজির মাত্র ৪। তবে ম্যাচটি ঘরের মাঠে হওয়ায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস থাকার কথা বায়ার্নের। কারণ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শেষ ১৮ চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে অপরাজিত তারা। অন্যদিকে পিএসজি তাদের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে হারানোর পর থেকেই অস্থির ফর্মে আছে। বায়ার্নের বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ডও ভালো নয়। বায়ার্নের আক্রমণভাগ শক্তিশালী এবং তারা তাদের ফর্ম ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী। পিএসজি যদি তাদের রক্ষণ ঠিক রাখতে পারে এবং আক্রমণভাগে তীব্রতা দেখাতে পারে, তবে তারা ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

আর্সেনাল বনাম স্পোর্টিং : আর্সেনাল ইংলিশ লিগে কিছুটা ফর্ম হারালেও নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে, এবার তারা ইউরোপীয় মঞ্চে ভালো করার তাগিদ নিয়ে মাঠে নামবে। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশানুরূপ নয়। বিশেষ করে অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোয় তারা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি এবং শেষ চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে স্পোর্টিং সিপি দারুণ ছন্দে রয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির মতো শক্তিশালী দলকে ৪-১ গোলে হারানোর পর তাদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তারা এই ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবে। স্পোর্টিং সিপির কোচ জোয়াও পেরেইরা নতুন দায়িত্ব নিয়ে দারুণ শুরু করেছেন। তাদের আক্রমণভাগে ফ্রান্সিসকো ট্রিনকাও এবং পেদ্রো গনসালভেসের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।