দীর্ঘদিনের কাশির কারণ কী?

শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে নানা ধরনের রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে কাশি। কিন্তু আবহাওয়া পরিবর্তন ছাড়াও অনেকের সারা বছর কাশির সমস্যা লেগেই থাকে। এ বিষয়ে বিশিষ্ট  ভারতীয় চিকিৎসক আশিস মিত্র জানান, ঋতু পরিবর্তনের সময় কিছু ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে। যে কারণে কাশি হয়। এই ধরনের কাশি মোটামুটি ৩০ দিনের মধ্যে কমে যায়। তবে কোনও কারণে কাশি যদি ১ মাসের বেশি চলে, সে ক্ষেত্রে সাবধান হওয়া উচিত। টানা কয়েকমাস ধরে কাশি থাকলে এর পিছনে না ধরনের কারন থাকতে পারে চলুন জেনে নেয়া যাক---

টিবি

এটি হলো একটি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এই রোগে আক্রান্তের কাশি হতে থাকে। সেই সঙ্গে জ্বর থাকে, ওজন কমে যায়, বুকে ব্যথা হয়। এর পাশাপাশি খুব ক্লান্তি থাকতে পারে। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে চেস্ট এক্স রে এবং কফের পরীক্ষা করান। রোগ ধরা পড়লে খেতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক। এই নিয়মটা মেনে চললেই অনায়াসে সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

অ্যাজমা

দিনের পর দিন কাশি না কমলে অ্যাজমার কথাও ভেবে দেখতে হবে। এই রোগে ভুক্তভোগীদের ফুসফুসে প্রদাহ হয়। সেই সঙ্গে এই অঙ্গের পেশি শক্ত হয়ে পড়তে পারে। যে কারণে কাশি হয়। সেই সঙ্গে হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই ধরনের কোনও লক্ষণ দেখলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।

ফুসফুসের ক্যান্সার

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই রোগে ভুক্তভোগীদেরও প্রাথমিক ভাবে কাশি হয়। কাশি কমতে চায় না। কাশির সঙ্গে রক্ত বেরোতে পারে। দ্রুত গতিতে কমে যেতে পারে ওজন। এমনকী শ্বাসকষ্টও হতে পারে। তাই কাশি না কমতে চাইলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে টেস্ট করান। ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করুন। 

থাইরয়েডের প্রদাহ

অনেক সময় নানা কারণে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে ইনফ্লামেশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যার ফলে গলা ব্যথা হতে পারে। সেই সঙ্গে থাকতে পারে কাশি।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করলেও কাশি হতে পারে। এই সমস্যাকে স্মোকার্স কাফ বলা হয়। তাই ১ মাসের বেশি কাশি থাকলে ধূমপান ছেড়ে দিন। 

অ্যাসিডিটি

জানলে অবাক হয়ে যাবেন, নিয়মিত অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুক্তভোগীদেরও কাশি হতে পারে। আর এই সমস্যা সাধারণ কিছু অ্যান্টাসিড খেলেই সেরে যায়। তবে নিজের বুদ্ধিতে কোনও ওষুধ খাবেন না। এই ভুলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।